টাইমস হায়ার এডুকেশনের বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ৮০১–১০০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের চার বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণে পরিচিত সূচকগুলোর একটি হলো টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস। ২০২৭ সালের তালিকায় বাংলাদেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ৮০১–১০০০তম অবস্থানের স্তরে জায়গা করে নিয়েছে। তবে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং শিল্পক্ষেত্রে অবদানের মতো নির্দিষ্ট সূচকে উল্লেখযোগ্য ফল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।
এবারের তালিকায় বাংলাদেশের মোট ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি র্যাঙ্কিং পেয়েছে, আর বাকি ১০টি ‘রিপোর্টার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ২,২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় এবারের র্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের পরিবর্তন
গত বছরের র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮০১–১০০০-এর মধ্যে ছিল। তবে ২০২৭ সালের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ১০০১–১২০০-এর স্তরে নেমে এসেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১০০১–১২০০-এর স্তরে থাকলেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করেছে।
সূচক দুটি হলো গবেষণার পরিমাণ, আয় ও সুনাম এবং শিল্পক্ষেত্রে প্রভাব। দ্বিতীয় সূচকটি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও আবিষ্কার শিল্প খাতে কতটা অবদান রাখছে, তা মূল্যায়ন করে।
এই একই বৈশ্বিক অবস্থান-স্তরে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ড্যাফোডিলের সাফল্য
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বৈশ্বিক তালিকায় ৮০১–১০০০-এর মধ্যে স্থান পাওয়ার পাশাপাশি দুটি নির্দিষ্ট সূচকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। এগুলো হলো গবেষণার মান এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি।
গবেষণার মানের সূচকে মূল্যায়ন করা হয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জ্ঞান ও ধারণা তৈরি এবং সেগুলো ছড়িয়ে দিতে কতটা ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজের আন্তর্জাতিক সংযোগ, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো সম্পর্কিত।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে ১২০১–১৪০০-এর স্তরে থাকলেও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার পরিবেশের মানসংক্রান্ত সূচকে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে।
কীভাবে নির্ধারণ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং?
টাইমস হায়ার এডুকার এবারের র্যাঙ্কিং তৈরি হয়েছে এলসেভিয়ারের সহযোগিতায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়।
প্রথমত, শিক্ষাদানের পরিবেশ ও মান; দ্বিতীয়ত, গবেষণার পরিবেশ; তৃতীয়ত, গবেষণার মান; চতুর্থত, শিল্পক্ষেত্রে প্রভাব; এবং পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি। অর্থাৎ, শুধু পাঠদান নয়—গবেষণার সুযোগ, গবেষণার প্রভাব, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
তবে র্যাঙ্কিংয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দিয়ে তার সব ধরনের শিক্ষাগত সক্ষমতা বা প্রতিটি বিভাগের মান পুরোপুরি বোঝা যায় না। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সময় বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যক্রম, শিক্ষক, গবেষণার সুযোগ, শিক্ষার খরচ, বৃত্তি এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা জরুরি।
বিশ্বসেরার তালিকায় শীর্ষে কারা?
২০২৭ সালের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় টানা ১১তম বছরের মতো প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। এরপর যথাক্রমে রয়েছে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ১১তম স্থানে উঠে এসে সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখকে ছাড়িয়ে গেছে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরও প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১৫-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে এবার শীর্ষ ১৫-এ এশিয়ার তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।
শিল্পক্ষেত্রে প্রভাবের সূচকে চীনের বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থান অর্জন করেছে। আর আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সূচকে শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গালফ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি।
আরও নিচের স্তরে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০১ বা তার পরবর্তী অবস্থানের শ্রেণিতে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউক্রেন, রাশিয়া, আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া, তুরস্ক ও ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার জন্য কী বার্তা?
আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের আন্তর্জাতিক উপস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরে। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে হলে গবেষণায় বিনিয়োগ, মানসম্মত পাঠদান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ করে বুয়েট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির নির্দিষ্ট সূচকে ভালো ফল দেখায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তি ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই সক্ষমতাগুলোকে আরও বিস্তৃত ও টেকসই করা গেলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক অবস্থান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিং তাই শুধু অবস্থানের প্রতিযোগিতা নয়; বরং শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মান যাচাই এবং উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার একটি মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষকদের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
পরবর্তীইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ
সম্পর্কিত সংবাদ
বাংলা শিক্ষা
‘গাইড বইওয়ালারা সাবধানে থাকবেন, এবার ধরা খাবেন’: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি

বাংলা শিক্ষা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন

বাংলা শিক্ষা
বিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
