ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

ও-লেভেল ও এ-লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বিদেশি শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যাতে দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে আরও সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বিদেশি শিক্ষাক্রমে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলস আয়োজিত এই সেমিনারে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেবে।
ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ ও সমমান সনদ নিয়ে জটিলতা
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি এবং সমমান সনদ সংগ্রহের জটিলতার কারণে তাদের অনেকেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়ে।
ও-লেভেল ও এ-লেভেল হলো যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত দুটি যোগ্যতা। বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষার সঙ্গে এগুলোর তুলনামূলক সমমান নির্ধারণের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই, সমমান সনদ এবং ভর্তি পরীক্ষার শর্তের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে তাদের জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ভর্তি ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা যায়, তা পর্যালোচনা করাই প্রস্তাবিত কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের শিক্ষা খাতের জন্য ‘সিস্টেম লস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে ভারত ও পাকিস্তানের উদাহরণও উঠে আসে। তিনি বলেন, দেশ দুটিতে ও-লেভেল ও এ-লেভেলের মতো যোগ্যতাকে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেটের (এইচএসসি) সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার নীতি রয়েছে।
সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রস্তাবিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এর লক্ষ্য হবে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ আরও সহজ ও সুসংগঠিত করা।
তবে নতুন নীতিমালায় ভর্তি পরীক্ষার কাঠামো, সমমান সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া কিংবা যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম কীভাবে পরিবর্তিত হবে, সে বিষয়ে সেমিনারে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কমিটির সুপারিশ এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের পর এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।
নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন, বিভিন্ন শিক্ষাক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান ভর্তি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্ব
সেমিনারে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পাঠ আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করলেও শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধারার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরির ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা জোরদারের বিষয়টি সামনে আসায় ভর্তি নীতি এবং শিক্ষাক্রমের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যালায়েন্সের সভাপতি মো. মোরশেদুল ইসলাম। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদেরা সেমিনারে অংশ নেন।
প্রস্তাবিত কমিটির সুপারিশের পরই ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা আরও পরিষ্কার হবে। আপাতত উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ও-লেভেল ও এ-লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সংক্রান্ত জটিলতা কমানো এবং দেশের উচ্চশিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ৮০১–১০০০-এর মধ্যে বাংলাদেশের চার বিশ্ববিদ্যালয়
পরবর্তীঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ খেয়ে অসুস্থ অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী
সম্পর্কিত সংবাদ
বাংলা শিক্ষা
‘গাইড বইওয়ালারা সাবধানে থাকবেন, এবার ধরা খাবেন’: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি

বাংলা শিক্ষা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন

বাংলা শিক্ষা
বিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
