প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবমে ভর্তি পরীক্ষা: বদলাচ্ছে স্কুলে ভর্তির নিয়ম

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়মে পরিবর্তন আনছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনে ভর্তির জন্য লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও মেধাক্রমের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে ভর্তির সুযোগ।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন ভর্তি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সব শ্রেণিতে চালু হওয়া লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। তবে প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে লটারি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোন শ্রেণিতে কীভাবে ভর্তি?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল লটারির আয়োজন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ পাঁচটি পছন্দের বিদ্যালয়ের নাম দিতে পারবেন। কোনো বিদ্যালয়ে দুই শিফট থাকলে এবং আবেদনকারী উভয় শিফট বেছে নিলে, সেগুলো আলাদা পছন্দ হিসেবে গণনা করা হবে।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। এসব শ্রেণিতে যেসব আসন খালি থাকবে, সেগুলোর বিপরীতে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ৫০। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০। অর্থাৎ প্রথম শ্রেণির বাইরে অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
লটারি থেকে পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত কেন আলোচনায়?
সরকারি স্কুলে ভর্তি নিয়ে পরীক্ষা চালু হবে কি না, তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছিল। গত মার্চে শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষাপদ্ধতি চালু করা হবে। এরপর শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সমালোচকদের আশঙ্কা, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার আওতায় আনলে তাদের ওপর অল্প বয়সেই বাড়তি পড়াশোনার চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অভিভাবকেরা সন্তানকে ভালো স্কুলে ভর্তি করাতে কোচিং ও ব্যক্তিগত শিক্ষকের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। এতে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সুযোগের পার্থক্য আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোচিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাকে ঘিরে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসতে পারে।
প্রথম শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার চাপ কিছুটা এড়ানোর সুযোগ থাকছে। তবে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে শিক্ষার্থীদের।
কেন চালু হয়েছিল লটারিপদ্ধতি?
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে একসময় তীব্র প্রতিযোগিতা ছিল। নামী বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করাতে অনেক পরিবার কোচিং ও ব্যক্তিগত শিক্ষকের সহায়তা নিত। ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠত। ফলে সাধারণ ও স্বল্প আয়ের পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য পছন্দের বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত।
এই পরিস্থিতিতে ২০১১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লটারিপদ্ধতি চালু করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চলতে থাকে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারিপদ্ধতি চালু করা হয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও এ ব্যবস্থা অব্যাহত ছিল। নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে আবারও প্রথম শ্রেণির বাইরে অন্যান্য শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষাভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষায় সমতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ
পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের পক্ষে যুক্তি হলো, মেধাক্রম অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ নির্ধারণ করা সম্ভব। তবে ভর্তি পরীক্ষা কতটা ন্যায্য হবে, তা নির্ভর করবে প্রশ্নের মান, পরীক্ষার আয়োজন, মূল্যায়নের স্বচ্ছতা এবং সব শিক্ষার্থীর প্রস্তুতির সুযোগের ওপর।
অন্যদিকে, লটারিপদ্ধতিতে পরীক্ষার ফল বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমলেও পছন্দের বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। দুই পদ্ধতিরই সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তন করলেই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার মান ও সুযোগের পার্থক্য দূর হবে না।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন নির্দেশিকার ফলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রস্তুতির ধরনেও পরিবর্তন আসবে। প্রথম শ্রেণিতে আবেদনকারীদের জন্য থাকবে ডিজিটাল লটারি, আর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে লিখিত পরীক্ষার ফল ও মেধাক্রম।
এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলেও ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ
পরবর্তীমাধ্যমিকে কমছে শিক্ষার্থী, বাড়ছে মাদ্রাসায়: বদলে যাচ্ছে শিক্ষার চিত্র?
সম্পর্কিত সংবাদ
বাংলা শিক্ষা
‘গাইড বইওয়ালারা সাবধানে থাকবেন, এবার ধরা খাবেন’: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি

বাংলা শিক্ষা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন

বাংলা শিক্ষা
বিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
