শতভাগ জিপিএ-৫ নিশ্চিত করতে ১০১ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার বাইরে রাখার অভিযোগ, ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের বিরুদ্ধে নির্বাচনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়া ১০১ শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে ছাড়পত্র নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হলেও, একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, পাস করা সব শিক্ষার্থীই ফরম পূরণের সুযোগ পেয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দৈনিক শিক্ষাডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ৪৮২ জন শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, শতভাগ জিপিএ-৫ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষা প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চায়।
১০১ শিক্ষার্থীকে পরের বছর পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষক ইমন হোসেন জানান, নির্বাচনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়া ১০১ শিক্ষার্থীকে পরের বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
প্রধান শিক্ষকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর জেলা পরীক্ষা কেন্দ্র কমিটির চেয়ারম্যান ও তৎকালীন নরসিংদী জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসাইন জেলাটিকে ‘জিরো ফেইল’ হিসেবে ঘোষণা করেন। নির্বাচনী পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে তাকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই নির্দেশনার কারণেই ওই ১০১ শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করতে দেওয়া হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরের বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর জন্য ছাড়পত্রের আবেদন করেন।
স্কুলের ব্যাখ্যায় স্ববিরোধিতার অভিযোগ
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একদিকে বলেছে, নির্বাচনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়া ১০১ শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে তাদের দাবি, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া সব শিক্ষার্থীই এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পেরেছে।
এই দুই বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নিতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে একদল জিপিএ-৫ পেয়েছে, আর অন্যদল ন্যূনতম পাস নম্বর অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু পাস নম্বর পেয়েও জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের অবস্থান কী ছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সাধারণভাবে নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস করা এবং জিপিএ-৫ পাওয়া এক বিষয় নয়। ফলে জিপিএ-৫ না পাওয়া সব শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, কিংবা পাস করেও জিপিএ-৫ না পাওয়া কোনো শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না—প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্যে সেই প্রশ্নগুলোর পরিষ্কার উত্তর নেই।
শিক্ষা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে গত ১৬ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৮ আগস্ট তার জবাব দেয়। চিঠিতে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে ওই জবাবের পর শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শতভাগ জিপিএ-৫, কিন্তু কীভাবে?
নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ৪৮২ জন অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ফলাফলটি নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। তবে নির্বাচনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়া ১০১ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পাশাপাশি নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে নয়; বরং নির্বাচনী পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া বিষয়টির পূর্ণ চিত্র জানা কঠিন।
মেডিকেল, ডেন্টাল ও নার্সিং—স্বাস্থ্যশিক্ষায় এগিয়ে নারীরা
পরবর্তীবিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
সম্পর্কিত সংবাদ
বাংলা শিক্ষা
‘গাইড বইওয়ালারা সাবধানে থাকবেন, এবার ধরা খাবেন’: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি

বাংলা শিক্ষা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন

বাংলা শিক্ষা
বিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
