পেত্রা: গোলাপি পাথরের হারিয়ে যাওয়া শহর
Biggest wonders of the world
Editorial Team২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১:০০ PM৪ ভিউ৭ মিনিট পড়া
শেয়ার:
যে শহর পাথরের বুকে লুকিয়ে ছিল
পেত্রা শুধু একটি ধ্বংসাবশেষ নয়; এটি একটি সভ্যতার গল্প, একটি জাতির প্রতিভা, আর প্রকৃতির সাথে মানুষের সংগ্রামের এক অসাধারণ উদাহরণ। জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই প্রাচীন শহরটি বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে ২০০৭ সালে নির্বাচিত হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক সারা দুনিয়া থেকে এই "গোলাপি শহর" দেখতে আসেন।
কিন্তু পেত্রা সম্পর্কে অনেক তথ্য আমরা জানি না। এটি কে তৈরি করেছিল? কেন তৈরি করা হয়েছিল? কীভাবে এত সুন্দর স্থাপনা পাথর কেটে তৈরি করা হলো? আর কেন এই শহর পরিত্যক্ত হয়েছিল? এই লেখায় আমরা সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজব।
পেত্রা কী ও কোথায় অবস্থিত
পেত্রা জর্ডানের মাআন গভর্নরেটে অবস্থিত। এটি আম্মান থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, আর আকাবা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তরে। শহরটি একটি সংকীর্ণ গিরিখাতের (যাকে বলা হয় সিক) ভিতরে অবস্থিত। এই গিরিখাতটি প্রায় ১.২ কিলোমিটার লম্বা, আর কিছু জায়গায় মাত্র ৩ মিটার চওড়া।
পেত্রার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর পাথরের রঙ। এখানকার পাথর হলো নুবিয়ান বেলেপাথর, যা গোলাপি, লাল, কমলা ও বেগুনি রঙের মিশ্রণ। সূর্যের আলো পড়লে এই পাথরগুলো গোলাপি রঙ ধারণ করে। এই কারণেই পেত্রাকে বলা হয় "রোজ সিটি" বা গোলাপি শহর।
কে তৈরি করেছিল: নাবাতীয় সভ্যতা
পেত্রা তৈরি করেছিল নাবাতীয়রা, একটি প্রাচীন আরব যাযাবর জাতি। তারা মূলত উত্তর আরব থেকে এসেছিল এবং খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর দিকে দক্ষিণ জর্ডানে বসতি স্থাপন করে। ধীরে ধীরে তারা একটি শক্তিশালী সভ্যতা গড়ে তোলে।
নাবাতীয়রা ছিল অত্যন্ত দক্ষ ব্যবসায়ী। তারা মশলা, ধূপ, গন্ধদ্রব্য, সোনা, হাতি দাঁত—এই সব মূল্যবান পণ্য নিয়ে বাণিজ্য করত। তাদের বাণিজ্যপথ ছিল দক্ষিণ আরব থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত। পেত্রা ছিল সেই বাণিজ্যপথের কেন্দ্র।
খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে নাবাতীয় সভ্যতা শীর্ষে পৌঁছায়। তখন পেত্রার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০। শহরে ছিল বিশাল মন্দির, সমাধি, থিয়েটার, বাজার—সবকিছু। কিন্তু ১০৬ খ্রিস্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্য পেত্রা দখল করে। এরপর ধীরে ধীরে শহরের গুরুত্ব কমতে থাকে।
কেন তৈরি করা হয়েছিল: বাণিজ্যের কেন্দ্র
পেত্রা তৈরি করা হয়েছিল মূলত বাণিজ্যের জন্য। নাবাতীয়রা বুঝেছিল, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র তৈরি করতে পারে, তাহলে আরব বণিকরা সেখানে আসবে। পেত্রার ভৌগোলিক অবস্থান ছিল আদর্শ—এটি মিশর, সিরিয়া, আরব ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগস্থলে।
পেত্রা আরও তৈরি করা হয়েছিল সুরক্ষার জন্য। গিরিখাতের সংকীর্ণ পথ শত্রুদের জন্য দুর্গম ছিল। শত্রুরা সহজে পেত্রায় ঢুকতে পারত না। শহরের চারপাশে ছিল উঁচু পাহাড়, যা প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করত।
নাবাতীয়রা পেত্রায় একটি জটিল জল ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। তারা পাহাড়ের গায়ে খাল কেটে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করত, যা দিয়ে শহরের মানুষ পানীয় জল ও সেচের পানি পেত। এই ব্যবস্থা মরুভূমির মধ্যে একটি সবুজ oasis তৈরি করেছিল।
কীভাবে তৈরি হলো: পাথর কেটে স্থাপত্য
পেত্রার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো—এর বেশিরভাগ স্থাপনা পাহাড়ের পাথর কেটে তৈরি। নাবাতীয়রা পাথর কেটে ভবন তৈরি করেনি; বরং পাহাড়ের গায়ে খোদাই করে ভবন তৈরি করেছিল। এই পদ্ধতিকে বলা হয় "রক-কাট স্থাপত্য"।
পেত্রার সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনা হলো আল-খাজনেহ বা "ধনভাণ্ডার"। এটি একটি বিশাল সমাধি, যা পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা। এর উচ্চতা প্রায় ৪০ মিটার, আর প্রস্থ ২৫ মিটার। এর সামনে রয়েছে ছয়টি বিশাল স্তম্ভ, যা পাহাড়ের সাথে একই পাথরে খোদাই করা। আল-খাজনেহ এত সুন্দর যে এটি পেত্রার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
পেত্রায় আরও রয়েছে আল-দেইর নামে একটি বিশাল মঠ, যা পাহাড়ের চূড়ায় খোদাই করা। এর উচ্চতা প্রায় ৫০ মিটার, আর প্রস্থ ৪৫ মিটার। এছাড়া রয়েছে রোমান থিয়েটার, যা পাহাড় কেটে তৈরি। এখানে প্রায় ৮,০০০ দর্শক বসতে পারত।
নাবাতীয়রা এই স্থাপনাগুলো তৈরি করতে কোনো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করেনি। তারা ব্যবহার করত লোহার হাতুড়ি, ছেনি ও কাঠের গুঁড়ি। শত শত শ্রমিক দিনরাত কাজ করত। একটি বড় সমাধি তৈরি করতে কয়েক বছর লাগত।
নাবাতীয়দের জল ব্যবস্থা: মরুভূমির জাদু
নাবাতীয়দের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল তাদের জল ব্যবস্থা। পেত্রা একটি মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বৃষ্টি কম হয়। তবু নাবাতীয়রা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যা দিয়ে সারা বছর পানি পাওয়া যেত।
তারা পাহাড়ের গায়ে খাল ও নালা কেটেছিল, যা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করত। এই পানি জমা হতো সিস্টার্ন বা ভূগর্ভস্থ জলাধারে। এছাড়া তারা বাঁধ তৈরি করেছিল, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ করত এবং পানি সংরক্ষণ করত।
নাবাতীয়রা পানির মূল্য বুঝত। তারা পানি বিক্রি করত, পানি রেশন করত। যুদ্ধের সময় শত্রুরা যদি পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিত, তাহলে পেত্রা টিকে থাকতে পারত না। তাই তারা পানি সংরক্ষণে বিশেষ মনোযোগ দিত।
পেত্রার সমাধি: মৃত্যুর প্রতি শ্রদ্ধা
পেত্রার বেশিরভাগ স্থাপনা হলো সমাধি। নাবাতীয়রা মৃত্যুকে সম্মান করত এবং মৃতদের জন্য সুন্দর সমাধি তৈরি করত। এই সমাধিগুলো পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা হতো।
সমাধির দেয়ালে খোদাই করা হতো মৃতের নাম, পরিবারের তথ্য, এমনকি মৃতের ছবি। কিছু সমাধিতে রাখা হতো মৃতের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র—গয়না, অস্ত্র, পাত্র। নাবাতীয়রা বিশ্বাস করত, মৃত্যুর পরেও আত্মা বেঁচে থাকে, তাই মৃতের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সমাধিতে রাখা হতো।
পেত্রার সবচেয়ে বড় সমাধি হলো আল-খাজনেহ, যা সম্ভবত কোনো নাবাতীয় রাজার সমাধি। এর নাম "ধনভাণ্ডার" হয়েছে কারণ স্থানীয়রা বিশ্বাস করত, এখানে ধন লুকানো আছে। আসলে এটি একটি সমাধি, কোনো ধনভাণ্ডার নয়।
কেন পরিত্যক্ত হলো: বাণিজ্যপথ পরিবর্তন
পেত্রা প্রায় ১০০০ বছর টিকে ছিল। কিন্তু ১০৬ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা পেত্রা দখল করার পর শহরের গুরুত্ব কমতে থাকে। এরপর নতুন বাণিজ্যপথ তৈরি হয়, যা পেত্রাকে এড়িয়ে যায়। পেত্রার বাণিজ্য কমে যায়, জনসংখ্যা কমে যায়।
এরপর ভূমিকম্প পেত্রাকে আঘাত করে। ৩৬৩ খ্রিস্টাব্দে একটি বড় ভূমিকম্পে পেত্রার অনেক স্থাপনা ধ্বংস হয়। ৫৫১ খ্রিস্টাব্দে আরেকটি ভূমিকম্পে শহর আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর পেত্রা প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
মধ্যযুগে পেত্রা পৃথিবীর কাছে হারিয়ে যায়। স্থানীয় বেদুইনরা জানত যে পাহাড়ের ভিতরে একটি প্রাচীন শহর আছে, কিন্তু বাইরের পৃথিবী তা জানত না। ১৮১২ সালে সুইস পর্যটক জোহান লুডভিগ বুরখার্ড পেত্রা পুনরাবিষ্কার করেন। তিনি স্থানীয় বেদুইনদের সাথে বন্ধুত্ব করে পেত্রায় প্রবেশ করেন।
পেত্রা কি সত্যিই "হারানো শহর" ছিল
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—পেত্রা কি সত্যিই "হারানো শহর" ছিল? স্থানীয় বেদুইনদের কাছে এটি কখনো হারিয়ে যায়নি। তারা শত শত বছর ধরে পেত্রার আশপাশে বাস করত, পেত্রার ভিতরে আশ্রয় নিত, পেত্রার পাথর ব্যবহার করত। বুরখার্ড যখন পেত্রায় প্রবেশ করেন, তখন সেখানে কিছু বেদুইন পরিবার বাস করত।
তাই "আবিষ্কার" শব্দটি কিছুটা বিভ্রান্তিকর। বুরখার্ড পেত্রা আবিষ্কার করেননি; তিনি এটি পৃথিবীর সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি কখনো হারায়নি; এটি কেবল বাইরের দুনিয়ার কাছে অজানা ছিল।
ইউনেস্কো স্বীকৃতি ও বর্তমান অবস্থা
১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো পেত্রাকে "ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট" ঘোষণা করে। ২০০৭ সালে এটি নতুন সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়।
আজ পেত্রা জর্ডানের সবচেয়ে বড় পর্যটন আকর্ষণ। ২০১৯ সালে প্রায় ১৩ লক্ষ পর্যটক পেত্রা পরিদর্শন করেন। তবে পর্যটকের চাপ, প্রাকৃতিক ক্ষয়, পানি ও বাতাসের দূষণ পেত্রার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জর্ডানের সরকার পেত্রা সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
পেত্রা সম্পর্কে কিছু মিথ
প্রথম মিথ হলো "পেত্রা সম্পূর্ণভাবে পাহাড় কেটে তৈরি"। আসলে পেত্রার কিছু স্থাপনা পাহাড় কেটে তৈরি, কিন্তু কিছু স্থাপনা পাথর দিয়ে তৈরি। যেমন, রোমান থিয়েটার পাহাড় কেটে তৈরি, কিন্তু কিছু বাড়ি পাথর দিয়ে তৈরি।
দ্বিতীয় মিথ হলো "পেত্রা একটি ধনভাণ্ডার"। আল-খাজনেহ নামের অর্থ "ধনভাণ্ডার", কিন্তু এটি আসলে একটি সমাধি। স্থানীয়দের বিশ্বাস ছিল এখানে ধন আছে, কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক খননে কোনো ধন পাওয়া যায়নি।
তৃতীয় মিথ হলো "পেত্রা একদিনে তৈরি হয়েছিল"। আসলে পেত্রা কয়েকশো বছর ধরে তৈরি হয়েছে। প্রতিটি সমাধি, প্রতিটি মন্দির, প্রতিটি বাড়ি আলাদা সময়ে তৈরি।
পেত্রার শিক্ষা: যা আমাদের শেখায়
পেত্রা আমাদের শেখায়—মানুষ যা তৈরি করে, তা কালের সাক্ষী হয়ে থাকে। নাবাতীয় সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু পেত্রা আজও দাঁড়িয়ে আছে। এটি প্রমাণ করে, সত্যিকারের সৃষ্টি কখনো মরে না।
পেত্রা আরও শেখায়—প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে তৈরি করা যায়। নাবাতীয়রা পাহাড় কেটে শহর তৈরি করেছিল, প্রকৃতিকে ধ্বংস না করে। তাদের জল ব্যবস্থা প্রকৃতির সাথে সহাবস্থানের উদাহরণ।
পেত্রা আমাদের সতর্কও করে—বাণিজ্যপথ পরিবর্তন হলে শহর মরে যায়। পেত্রা একসময় বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল, কিন্তু নতুন পথ তৈরি হলে এটি পরিত্যক্ত হয়। এই শিক্ষা আজকেও প্রযোজ্য—পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে টিকে থাকা কঠিন।
উপসংহার: গোলাপি পাথরের অমর শহর
পেত্রা কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়; এটি একটি সভ্যতার স্মৃতিস্তম্ভ, একটি প্রকৌশলের বিস্ময়, আর একটি ইতিহাসের অমর সাক্ষী। নাবাতীয়রা এই শহর তৈরি করেছিল বাণিজ্যের জন্য; কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এটি হয়ে উঠেছে পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়।
আজ পৃথিবী যখন এই গোলাপি পাথরের শহরের দিকে তাকায়, তখন তারা কেবল পাথরের ইমারত দেখে না; তারা দেখে নাবাতীয়দের শ্রম, তাদের দক্ষতা, তাদের স্বপ্ন। তারা দেখে কীভাবে একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেলেও তার সৃষ্টি টিকে থাকে। পেত্রা সেই টিকে থাকার প্রতীক—মরুভূমির বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক অমর ইতিহাস।
পূর্ববর্তী
ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার: পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আশার প্রতীক
পরবর্তীকলোসিয়াম: রোমের অমর গৌরবের সাক্ষী
সম্পর্কিত সংবাদ
বাংলা শিক্ষা
‘গাইড বইওয়ালারা সাবধানে থাকবেন, এবার ধরা খাবেন’: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি

বাংলা শিক্ষা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন

বাংলা শিক্ষা
বিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
