মানুষ ঘুমায় কেন? ঘুমের সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে?

প্রতিদিন রাতে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। কখনো গভীর ঘুমে ডুবে যাই, কখনো স্বপ্ন দেখি, আবার কখনো সামান্য শব্দেই ঘুম ভেঙে যায়। জীবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় মানুষ ঘুমিয়ে কাটায়। অথচ ঘুমের সময় আমাদের চারপাশ সম্পর্কে সচেতনতা কমে গেলেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকে না। বরং এই সময়েও মস্তিষ্ক নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যায়—স্মৃতি গুছিয়ে নেওয়া, শেখা বিষয়গুলোকে সুসংহত করা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা।
কিন্তু মানুষ কেন ঘুমায়? ঘুমের সময় মস্তিষ্কে ঠিক কী ঘটে? আর পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আমাদের চিন্তা, স্মৃতি ও শরীরের ওপরই বা কী প্রভাব পড়ে?
ঘুম কেন প্রয়োজন?
ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করার উপায় নয়। এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা ভালো থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এখনো ঘুমের প্রতিটি কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম স্মৃতি গঠনে সাহায্য করে, আবেগ প্রক্রিয়াকরণে ভূমিকা রাখে এবং রোগপ্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সমর্থন করে। এ ছাড়া শরীরের বিপাকক্রিয়া, হরমোনের ভারসাম্য ও টিস্যু মেরামতের মতো প্রক্রিয়ার সঙ্গেও ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে।
একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: ঘুমের প্রয়োজন শুধু শরীরের বিশ্রামের জন্য নয়, মস্তিষ্কেরও বিশ্রাম ও পুনর্গঠনের জন্য। দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে মনোযোগ ধরে রাখা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নতুন তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
মস্তিষ্ক কীভাবে বুঝতে পারে যে ঘুমানোর সময় হয়েছে?
মানুষের ঘুম নিয়ন্ত্রণে দুটি ব্যবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি, অন্যটি হলো জেগে থাকার সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকা ঘুমের চাপ।
১. শরীরের জৈবিক ঘড়ি
আমাদের শরীরে একটি অভ্যন্তরীণ সময়নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) বলা হয়। এটি সাধারণত প্রায় ২৪ ঘণ্টার চক্রে কাজ করে। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের একটি ক্ষুদ্র অংশ—সুপ্রাকিয়াজম্যাটিক নিউক্লিয়াস (SCN)—এই ছন্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আলো এই জৈবিক ঘড়ির অন্যতম প্রধান সংকেত। চোখের বিশেষ আলোকসংবেদী কোষ পরিবেশের আলো সম্পর্কে মস্তিষ্ককে তথ্য দেয়। দিনের আলো শরীরকে জাগ্রত থাকার সংকেত দিতে সাহায্য করে। সন্ধ্যা ও রাতে আলো কমে এলে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণে পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামের হরমোন নিঃসরণ বাড়ে। এটি শরীরকে রাতের সময়ের সংকেত দেয় এবং ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়তা করে।
এ কারণেই রাতে উজ্জ্বল আলো, বিশেষ করে ঘুমের ঠিক আগে দীর্ঘ সময় উজ্জ্বল পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা, কিছু মানুষের ঘুমের সময় পিছিয়ে দিতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করে আলোর তীব্রতা, সময় এবং ব্যক্তির ঘুমের অভ্যাসের ওপর।
২. জেগে থাকার সঙ্গে বাড়ে ঘুমের চাপ
ঘুমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক হলো ঘুমের চাপ। আমরা যত বেশি সময় জেগে থাকি, সাধারণত তত বেশি ঘুমের প্রয়োজন অনুভব করি। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অ্যাডেনোসিন নামের একটি রাসায়নিকের সম্পর্ক রয়েছে। জেগে থাকার সময় মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিনের প্রভাব বাড়তে থাকে, যা ঘুমের প্রবণতা তৈরি করতে সাহায্য করে।
ক্যাফেইন—যা চা, কফি ও কিছু কোমল পানীয়তে পাওয়া যায়—অ্যাডেনোসিনের রিসেপ্টর বা গ্রহণস্থলে বাধা দিয়ে সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমাতে পারে। কিন্তু ক্যাফেইন ঘুমের প্রকৃত প্রয়োজন দূর করে না। ফলে কেউ ক্যাফেইন পান করে কিছু সময় জেগে থাকতে পারলেও তার মস্তিষ্কের বিশ্রামের প্রয়োজন থেকেই যায়।
এই দুটি ব্যবস্থা—জৈবিক ঘড়ি ও ঘুমের চাপ—একসঙ্গে কাজ করে আমাদের কখন ঘুম পাবে এবং কখন জেগে থাকতে সুবিধা হবে, তা নির্ধারণে সাহায্য করে।
ঘুমের সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে?
ঘুম কোনো একটানা একই অবস্থার নাম নয়। রাতের ঘুমে মস্তিষ্ক কয়েকটি ভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়। এগুলো প্রধানত দুই ধরনের: নন-র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা NREM ঘুম এবং র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা REM ঘুম।
NREM ঘুমের মধ্যে আবার তিনটি পর্যায় রয়েছে। সাধারণত হালকা ঘুম থেকে গভীর ঘুমের দিকে অগ্রসর হওয়ার পর REM ঘুম আসে। এই পর্যায়গুলো সারা রাত ধরে কয়েকবার পুনরাবৃত্তি হয়। প্রতিটি চক্রের দৈর্ঘ্য এক রকম নয়; রাতের প্রথম ভাগে গভীর NREM ঘুম বেশি থাকে, আর শেষ ভাগে REM ঘুমের পরিমাণ সাধারণত বাড়ে।
হালকা ঘুম: জাগ্রত অবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া
ঘুমের প্রথম পর্যায়ে শরীর ও মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে জাগ্রত অবস্থা থেকে ঘুমের দিকে যায়। হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুটা ধীর হয়, পেশি শিথিল হতে শুরু করে এবং বাইরের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা কমে আসে।
এই পর্যায়ে সামান্য শব্দ বা স্পর্শে সহজেই ঘুম ভেঙে যেতে পারে। মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও জাগ্রত অবস্থার তুলনায় পরিবর্তিত হতে থাকে।
পরবর্তী হালকা ঘুমের পর্যায়ে মস্তিষ্কে বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক সংকেত দেখা যায়, যেমন স্লিপ স্পিন্ডল ও K-কমপ্লেক্স। এগুলো ঘুমের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ঘুমের স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।
গভীর ঘুম: শরীর ও মস্তিষ্কের পুনরুদ্ধার
NREM ঘুমের তৃতীয় পর্যায়কে গভীর ঘুম বলা হয়। এ সময় মস্তিষ্কে ধীরগতির বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বেশি দেখা যায়। মানুষকে এই পর্যায় থেকে জাগানো তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।
গভীর ঘুম শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় শরীরের বিভিন্ন মেরামত-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে এবং রোগপ্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম সমর্থিত হয়। শিশু-কিশোরদের বৃদ্ধি ও বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণও ঘুমের সঙ্গে যুক্ত, বিশেষত গভীর ঘুমের সময়।
এ ছাড়া গভীর ঘুম স্মৃতি সুসংহত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে। দিনের বেলায় শেখা তথ্যের কিছু অংশ এই পর্যায়ে আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে সব ধরনের স্মৃতি একইভাবে বা শুধু গভীর ঘুমের সময় গঠিত হয় না; বিভিন্ন পর্যায় বিভিন্ন ধরনের স্মৃতির প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
REM ঘুম: স্বপ্ন ও আবেগের জগৎ
REM ঘুমের পূর্ণরূপ Rapid Eye Movement। এই পর্যায়ে চোখের পাতা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও চোখ দ্রুত বিভিন্ন দিকে নড়াচড়া করতে পারে। মস্তিষ্কের কার্যক্রমের কিছু বৈশিষ্ট্য জাগ্রত অবস্থার কাছাকাছি দেখা যায়, আর অধিকাংশ কঙ্কালপেশির নড়াচড়া সাময়িকভাবে দমিত থাকে।
স্বপ্নের অনেক জীবন্ত ও গল্পের মতো অভিজ্ঞতা REM ঘুমের সময় ঘটে। তবে সব স্বপ্ন শুধু REM পর্যায়েই হয় না; NREM ঘুমেও স্বপ্ন বা স্বপ্নসদৃশ অভিজ্ঞতা হতে পারে।
REM ঘুম আবেগ প্রক্রিয়াকরণ, শেখা এবং কিছু ধরনের স্মৃতি গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে স্বপ্ন দেখার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। সব স্বপ্নের একটি নির্দিষ্ট অর্থ আছে বা প্রতিটি স্বপ্ন মস্তিষ্কের কোনো বিশেষ বার্তা বহন করে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ঘুমের মধ্যে স্মৃতি কীভাবে গুছিয়ে নেয় মস্তিষ্ক?
আমরা দিনের বেলায় নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই, পড়াশোনা করি, কাজ শিখি এবং নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাই। এসব তথ্যের কিছু অংশ সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে সংরক্ষিত হয়। ঘুমের সময় সেই তথ্যের কিছু অংশ পুনরায় সক্রিয় হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নতুন স্মৃতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুমের নির্দিষ্ট পর্যায়ে হিপোক্যাম্পাস ও মস্তিষ্কের কর্টেক্সের মধ্যে তথ্য বিনিময় ঘটে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এর মাধ্যমে নতুন শেখা তথ্য আরও স্থিতিশীলভাবে সংরক্ষিত হতে পারে।
এ কারণেই কোনো বিষয় পড়ার পর পর্যাপ্ত ঘুম শেখা তথ্য মনে রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিপরীতে, পরীক্ষার আগে সারা রাত জেগে পড়াশোনা করলে পড়ার সময় বাড়লেও পরদিন মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও স্মৃতি থেকে তথ্য মনে করার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে ঘুম মানেই দিনের সব তথ্য স্থায়ীভাবে স্মৃতিতে জমা হওয়া নয়। মস্তিষ্ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, কিছু সংযোগ শক্তিশালী করে এবং অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রভাব কমাতে পারে। স্মৃতি গঠনে শেখার মান, অনুশীলন, মনোযোগ ও ঘুম—সবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের সময় মস্তিষ্ক কি বর্জ্য পরিষ্কার করে?
মস্তিষ্কের কাজের সঙ্গে নানা বিপাকীয় উপজাত তৈরি হয়। এগুলোর কিছু অপসারণে মস্তিষ্কের তরল চলাচল ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থা ভূমিকা রাখে। গবেষকেরা গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম (Glymphatic System) নামে পরিচিত একটি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি মস্তিষ্কের টিস্যুর মধ্য দিয়ে তরল চলাচল ও কিছু বর্জ্য পদার্থ অপসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রাণীর ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময় মস্তিষ্কের তরল চলাচল ও কিছু বর্জ্য অপসারণের প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে গবেষণা চলছে। তবে এই ব্যবস্থার সব কার্যপ্রণালি, ঘুমের সঙ্গে এর সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যে এর প্রভাব এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
তাই ঘুমকে মস্তিষ্কের ‘পরিষ্কার করার সময়’ বলা জনপ্রিয় হলেও বিষয়টি আরও জটিল। ঘুমের উপকারিতা শুধু বর্জ্য অপসারণে সীমাবদ্ধ নয়; স্মৃতি, আবেগ, বিপাক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কী ঘটে?
ঘুমের অভাব প্রথমে মনোযোগ ও সতর্কতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম কম হলে নতুন তথ্য শেখা, সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কেউ কেউ খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ বা মানসিক ক্লান্তিও অনুভব করেন।
দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে; শুধু ঘুমের অভাবই সব ক্ষেত্রে একমাত্র কারণ নয়।
ঘুমের ঘাটতি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে, কারণ এতে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সময় ধীর হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের জন্য অনিচ্ছাকৃতভাবে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। গাড়ি চালানো বা যন্ত্র পরিচালনার মতো কাজে এটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক।
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়; অনেকের ক্ষেত্রে সাত থেকে নয় ঘণ্টা উপযোগী। কিশোর-কিশোরীদের সাধারণত আরও বেশি ঘুম দরকার। ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন কিছুটা আলাদা হতে পারে, তবে নিয়মিত পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ভালো ঘুমের জন্য কী করা যায়?
ঘুমের মান উন্নত করতে কিছু সহজ অভ্যাস সহায়ক হতে পারে। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জেগে ওঠা শরীরের জৈবিক ঘড়িকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো পাওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপও উপকারী।
ঘুমানোর আগে চা-কফি বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো, বিশেষ করে ক্যাফেইন গ্রহণে যাঁদের ঘুমের সমস্যা হয়। শোয়ার ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ঘুম সহজ হতে পারে। ঘুমের ঠিক আগে উজ্জ্বল পর্দা ব্যবহার কমানোও অনেকের ক্ষেত্রে সহায়ক।
নিয়মিত ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত দিনের ঘুমভাব, জোরে নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে আসার লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব লক্ষণ কখনো কখনো ঘুমসংক্রান্ত রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘুম: নিষ্ক্রিয়তা নয়, মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞ
ঘুমের সময় আমরা বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন থাকি, কিন্তু মস্তিষ্ক তখনও নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে স্মৃতি সুসংহত হয়, আবেগ প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা মেলে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে। জৈবিক ঘড়ি ও ঘুমের চাপ একসঙ্গে আমাদের ঘুমের সময় নিয়ন্ত্রণ করে।
বিজ্ঞানীরা এখনো ঘুমের সব রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ঘুম সময়ের অপচয় নয়। শেখা, চিন্তা করা, সুস্থ থাকা এবং প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি, তখন মস্তিষ্ক থেমে থাকে না; বরং পরবর্তী দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে।
মৌমাছি পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেলে কী হবে?
পরবর্তীবাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা বাড়াতে কী কী প্রয়োজন?
সম্পর্কিত সংবাদ
বিজ্ঞান বার্তা
টেকসই জ্বালানির ভবিষ্যৎ: বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও তরুণ গবেষকদের ভূমিকা
বিজ্ঞান বার্তা
মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা শক্তি: কেন ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎ বদলে দিতে পারে ভবিষ্যতের জ্বালানি বিশ্ব

বিজ্ঞান বার্তা
কাগজের আবিষ্কার: যে উদ্ভাবন জ্ঞানকে পৌঁছে দিয়েছিল মানুষের ঘরে ঘরে
বিজ্ঞান বার্তা
জিপিএস (GPS): পৃথিবীর যেকোনো জায়গা খুঁজে পেতে যে প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে আমাদের জীবন

বিজ্ঞান বার্তা
স্মার্টফোন: যে আবিষ্কার মানুষের পকেটেই এনে দিয়েছে পুরো পৃথিবী
বিজ্ঞান বার্তা
অ্যারিস্টটল: যে দার্শনিক যুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত খুলেছিলেন
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
