বারবারা কার্টল্যান্ড: সাহিত্যের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্যারাডক্স — যিনি কোটি কোটি হৃদয় জয় করেছিলেন, অথচ খুব কম মানুষই তাকে মনে রেখেছে
সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রীত লেখক

মানবসাহিত্যের বিশাল আকাশে এমন কিছু প্রতিভা আছেন, যাদের কৃতিত্ব প্রচলিত মূল্যায়নের গণ্ডিতে ধরা দেয় না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির অপেক্ষা করেন না, সমালোচকদের প্রশংসার দাসত্ব করেন না, অথচ সবচেয়ে খাঁটি উপায়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ঢুকে পড়েন। বারবারা কার্টল্যান্ড ঠিক তেমনই এক চরিত্র। তিনি পৃথিবীর তৃতীয় সর্বাধিক বিক্রীত লেখক — শেক্সপিয়ার ও আগাথা ক্রিস্টির পরেই — যার বই বিক্রি হয়েছে সাতশো পঞ্চাশ কোটি কপিরও বেশি। অথচ আজ কোনো বইয়ের দোকানে গেলে তার বই খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব; কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যের ইতিহাসের পাতায় তার নাম খুঁজলে হতাশ হতে হয়। এই বিস্ময়কর বৈপরীত্যটিই নিজে একটা উপন্যাস হওয়ার যোগ্য।
১৯০১ সালের ৯ জুলাই ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের এজবাস্টনে জন্মগ্রহণ করেন মেরি বারবারা হ্যামিলটন কার্টল্যান্ড। তার পিতা বার্ট্রাম ছিলেন একজন ব্রিটিশ সেনা অফিসার, পরিবারটি ছিল মধ্যবিত্তের সচ্ছলতার সীমায়। কিন্তু নিয়তির আঘাত এল অনেক আগেই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কেড়ে নিল তার বাবার জীবন, আর তার ঠিক পরেই তার দাদা জেমস কার্টল্যান্ড — যিনি একসময় ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি — দেউলিয়া হয়ে আত্মহত্যা করলেন। এক রাতের মধ্যে বারবারা, তার মা আর দুই ভাই আরামদায়ক জীবন থেকে নেমে এলেন দারিদ্র্যের অতলে। পরে তিনি স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, লন্ডনে তার মায়ের সেই ছোট্ট দর্জির দোকান, যেখানে এক সুতোয় এক সুতোয় করে তিন সন্তানকে বড় করে তুলতে হয়েছিল — সেই দৃশ্যই তাকে শৈশব থেকেই শিখিয়ে দিয়েছিল এক নির্মম সত্য: এই পৃথিবীতে বাঁচতে হলে একজন নারীকে পুরুষের চেয়ে বেশি কঠিন হতে হবে, বেশি পরিশ্রমী হতে হবে, আর সবার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার সাহস রাখতে হবে।
১৯২০ সালে, মাত্র উনিশ বছর বয়সে, কার্টল্যান্ড লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকায় সোশ্যাল গসিপ কলাম লেখা শুরু করেন। এই কাজ তাকে সুযোগ দিল লন্ডনের অভিজাত সমাজের ভেতরের কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার — কে কার সাথে বিয়ে করল, কে কাকে বিশ্বাসঘাতকতা করল, কে আবার রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে গেল। এই বাস্তব গল্পগুলোই তার মধ্যে মানুষের দুর্বলতা সম্পর্কে এক তীক্ষ্ণ উপলব্ধি তৈরি করে, আর শিখিয়ে দেয় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা: কীভাবে সবচেয়ে সহজ ভাষায় সবচেয়ে মুগ্ধকর কাহিনি বলা যায়। ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস জিগ-স'। এটি কিন্তু পরবর্তী পাঠকদের চেনা সেই মিষ্টি প্রেমের গল্প ছিল না, বরং ছিল একটি সাহসী সামাজিক থ্রিলার। সত্যি বলতে, কার্টল্যান্ডের প্রথম জীবনের লেখা অনেক বেশি দুঃসাহসী ছিল — এমনকি ১৯২৬ সালের একটি উপন্যাস সংবেদনশীল বিষয়বস্তুর কারণে ব্রিটিশ সেন্সর বোর্ড নিষিদ্ধ করে। যে নারী পরে গোলাপি লেসের পোশাকে, বুকে পিকিং হাঁস নিয়ে "রোমান্সের রানি" হয়ে উঠবেন, তারুণ্যে তিনি ছিলেন একজন ধারালো, ঝুঁকিপ্রবণ লেখিকা।
তার লেখার পদ্ধতিটি ছিল সাহিত্যের ইতিহাসে এক বিস্ময়। কার্টল্যান্ড কখনো টাইপরাইটারের সামনে বসে ভাবতেন না, বরং তিনি শুয়ে থাকতেন তার স্টাডির সোফায়, বুকে নিয়ে প্রিয় পিকিং কুকুরটিকে, আর মুখে বলে যেতেন গোটা উপন্যাস — সেক্রেটারিরা তা লিখে নিতেন। তিনি দাবি করতেন, দিনে তিনি আট হাজার শব্দ বলতে পারেন, আর দুই সপ্তাহে একটি আটাত্তর হাজার শব্দের উপন্যাস সম্পূর্ণ করতে পারেন। এক বছরে তিনি তেইশটি বই প্রকাশ করেছেন — এই রেকর্ড আজও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অটুট, কেউ ভাঙতে পারেনি। সংখ্যাগুলো মাথা ঘোরানোর মতো: সাতশো তেইশটি রচনা, ছত্রিশটি ভাষায় অনূদিত, সাতশো পঞ্চাশ কোটি থেকে একশ কোটি পর্যন্ত বিক্রি। এই বইগুলো একটার পর একটা সাজিয়ে রাখলে যত উচ্চতা হবে, তা পাঁচ হাজার আইফেল টাওয়ার একটার উপর আরেকটা বসানোর সমান।
কিন্তু কার্টল্যান্ডের লেখা কখনো শুধু সংখ্যা তৈরির জন্য ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে জানতেন তার পাঠক কারা, আর তারা কী চায়। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের ইংল্যান্ডে অসংখ্য শ্রমজীবী নারী যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক সংকটে টিকে থাকার লড়াই করছিলেন, কারখানার উৎপাদন লাইনে তাদের যৌবন শেষ করে দিচ্ছিলেন, সংকীর্ণ রান্নাঘরে জীবনের সেরা সময় কাটাচ্ছিলেন, মদ্যপ স্বামী, ঠাসাঠাসি অ্যাপার্টমেন্ট আর অন্তহীন অভাবের মুখোমুখি হয়ে। এই নারীদের জন্য কার্টল্যান্ডের বই ছিল একমাত্র জানালা, যেখান দিয়ে তারা উঁকি দিতে পারতেন এমন এক জগতে, যেখানে একজন সাধারণ মেয়ে একজন ডিউকের প্রেমে পড়তে পারে, যেখানে ভালোবাসা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে জয়ী হয়, যেখানে জীবনের শেষে অপেক্ষা করে সুখ আর সম্মান। কার্টল্যান্ড সচেতনভাবে সেই স্বপ্ন বিক্রি করতেন যাতে তার পাঠকরা বাস্তবের নির্মমতা দুই ঘণ্টার জন্য ভুলে থাকতে পারেন। আর সেটাই ছিল তার সর্বোচ্চ সেবা।
কার্টল্যান্ডের রোমান্টিক উপন্যাসগুলোর একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ছিল, যা তার পাঠকরা চিনতেন আর ভালোবাসতেন। নায়িকা সাধারণত তরুণী, নির্দোষ, সতী; নায়ক সাহসী, রহস্যময়, অভিজাত। ঘটনাস্থল প্রায়ই ছিল ভিক্টোরিয়ান বা এডওয়ার্ডিয়ান যুগের কোনো অভিজাত বাড়ি, ইউরোপের কোনো রোমান্টিক শহর, অথবা কোনো দুর্গম প্রাসাদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল — তার উপন্যাসে কোনো যৌনতার বর্ণনা ছিল না। চুম্বন পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে গল্প শেষ হয়ে যেত। কার্টল্যান্ড দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, ভালোবাসা স্পর্শের আগেই কল্পনায় বাঁচে, আর সেই কল্পনাই সবচেয়ে শক্তিশালী। এই নীতিতে তিনি ছিলেন অটল, কখনো আপস করেননি। ফলে তার পাঠকরা জানতেন, তার বই হাতে নিলে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, আর হৃদয়স্পর্শী এক যাত্রা অপেক্ষা করছে।
কিন্তু এই সাদাসিধে রোমান্সের আড়ালে কার্টল্যান্ডের জীবন ছিল একেবারে অন্যরকম। তিনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ক্ষমতাবান নারী, যিনি নিজের জীবন সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি বিয়ে করেছিলেন আলেকজান্ডার ম্যাকরেলকে, যিনি ছিলেন তার চেয়ে বয়সে বড় এবং একসময় বিবাহিত। এই সম্পর্ক নিয়ে সমাজে বিতর্ক ছিল, কিন্তু কার্টল্যান্ড কখনো সেটা নিয়ে মাথা ঘামাননি। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি বিয়ে করেন তার সৎপুত্র ইয়ান ম্যাকরেলকে — যিনি ছিলেন তার সেনাবাহিনীর সাবেক অফিসার ও একজন প্রাক্তন এমপি। ইয়ান মারা যাওয়ার পর কার্টল্যান্ড তার শোককে রূপান্তরিত করেন সক্রিয়তায়, আর তার শেষ জীবন কাটে পূর্ণ উদ্যমে লেখা, ব্যবসা আর সামাজিক কাজে।
কার্টল্যান্ডের প্রভাব শুধু বইয়ের দুনিয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ব্রিটেনের অন্যতম প্রভাবশালী নারী হয়ে উঠেছিলেন, যিনি রাজনীতি, সমাজসেবা ও জনমত গঠনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যাকে তিনি নানাভাবে পরামর্শ দিতেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ভোটাধিকার আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন, নার্সদের বেতন বৃদ্ধির জন্য সোচ্চার ছিলেন, রোমা (জিপসি) জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করেছেন। ব্রিটেনের রাজপরিবারের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, বিশেষত রাজকুমারী ডায়ানার সাথে, যাকে তিনি নানাভাবে পরামর্শ দিতেন। ১৯৯১ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে "ডেম" উপাধিতে ভূষিত করেন — ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান।
কিন্তু এই সব কিছুর পরেও কার্টল্যান্ড সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সত্যটা হলো — তাকে কেউ গুরুত্বের সাথে নেয়নি। সাহিত্য সমালোচকরা তাকে উপহাস করেছেন, তার লেখাকে "সস্তা রোমান্স", "পুনরাবৃত্তিমূলক", "শিল্পহীন" বলে আখ্যা দিয়েছেন। জর্জ অরওয়েল একবার লিখেছিলেন, তার বইগুলো "সম্পূর্ণ নিরীহ" — যেটা প্রশংসা হিসেবে বলা হয়নি। একজন সমালোচক বলেছিলেন, কার্টল্যান্ডের প্রতিটি উপন্যাস পড়া মানে একই বই বারবার পড়া। কিন্তু কার্টল্যান্ড এসব সমালোচনায় কখনো বিচলিত হননি। তিনি বরং গর্ব করে বলতেন, তার লেখার কোনো সাহিত্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, তিনি কেবল তার পাঠকদের সুখী করতে চান। আর এই সরল স্বীকারোক্তিই তার প্রতিভার সারমর্ম।
এই উপহাসের পিছনে একটা লিঙ্গবাদী দৃষ্টিভঙ্গি লুকিয়ে ছিল, যেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। পুরুষ লেখকরা যখন রোমান্টিক বা জনপ্রিয় সাহিত্য লেখেন, তাদের অনেককে "গুরুতর" লেখক হিসেবে গণ্য করা হয়, কিন্তু নারীরা যখন একই কাজ করেন, তাদের লেখা হয়ে যায় "হালকা", "অগুরুত্বপূর্ণ", "মহিলাদের বই"। কার্টল্যান্ড তার পুরো জীবন এই পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, যদিও কখনো সেটাকে সরাসরি স্বীকার করেননি। তিনি বরং তার কাজ দিয়ে প্রমাণ করেছেন — কোটি কোটি নারীর সুখের মুহূর্ত, তাদের একাকী রাতের সঙ্গী, তাদের স্বপ্ন দেখার সাহস — এগুলোর কোনো মূল্য নেই? কে ঠিক করে কোন সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা নয়?
বারবারা কার্টল্যান্ড ২০০০ সালের ২১ মে, ৯৮ বছর বয়সে, ইংল্যান্ডের হ্যাটফিল্ড হাউসে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর সময় তিনি ছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল, সবচেয়ে পরিশ্রমী, সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখকদের একজন। তার স্মৃতিকথা, তার রোমান্টিক উপন্যাস, তার অসংখ্য নিবন্ধ — সব মিলিয়ে তিনি রেখে গেছেন এক অকল্পনীয় উত্তরাধিকার।
শেষ বিচারে, বারবারা কার্টল্যান্ড মানে কেবল কিছু রোমান্টিক উপন্যাস নয়। তিনি মানে সেই নারী, যিনি শৈশবে বাবার মৃত্যু আর দাদার আত্মহত্যা দেখে বড় হয়েছেন, যিনি টাইপরাইটার ছুঁয়ে না দেখেই সাতশো তেইশটি বই লিখেছেন, যিনি লক্ষ লক্ষ নারীর একাকী রাতের সঙ্গী হয়েছেন। তিনি মানে সেই লেখিকা, যিনি সাহিত্য সমালোচকদের উপহাস সহ্য করেছেন, তবু এক মুহূর্তের জন্য তার পাঠকদের থেকে দূরে সরেননি। তিনি মানে সেই কণ্ঠস্বর, যিনি প্রমাণ করেছেন, বাণিজ্যিক সাফল্য আর সাহিত্যিক মর্যাদা এক জিনিস নয়, আর জনপ্রিয়তা কোনো পাপ নয়। বারবারা কার্টল্যান্ড কোনো এক দেশের, এক যুগের, এক ভাষার লেখিকা নন — তিনি সমগ্র মানবজাতির সেই স্বপ্নদ্রষ্টাদের প্রতিনিধি, যারা বাস্তবের নির্মমতা থেকে পালিয়ে দুই ঘণ্টার জন্য সুখের জগতে আশ্রয় নিতে চান। আর সেই আশ্রয় কোনোদিন অপ্রয়োজনীয় হবে না, কারণ মানুষ কোনোদিন স্বপ্ন দেখা বন্ধ করবে না।
আগাথা ক্রিস্টি: সেই নারী, যিনি মানবমনের অন্ধকার প্রকোষ্ঠকে রহস্যের আলোয় উদ্ভাসিত করেছিলেন
পরবর্তীড্যানিয়েল স্টিল: সেই নারী, যিনি মানুষের হৃদয়ের সমস্ত ভাঙন আর পুনর্জন্মকে অক্ষরে বন্দি করে ফেলেছেন
সম্পর্কিত সংবাদ
বাংলা শিক্ষা
‘গাইড বইওয়ালারা সাবধানে থাকবেন, এবার ধরা খাবেন’: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি

বাংলা শিক্ষা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন

বাংলা শিক্ষা
বিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
