মেঘনাদ সাহা: যে সমীকরণ নক্ষত্রের উত্তাপ আর আলো থেকে তাদের পরিচয় পড়তে শিখিয়েছিল
মেঘনাদ সাহা

রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমরা অসংখ্য নক্ষত্র দেখতে পাই। দূরত্ব এত বেশি যে কোনো নক্ষত্রের কাছে গিয়ে তার তাপমাত্রা মাপা, রাসায়নিক গঠন পরীক্ষা করা কিংবা তার ভেতরে কী ঘটছে তা সরাসরি দেখা সম্ভব নয়।
তবু বিজ্ঞানীরা জানেন—কোনো নক্ষত্র কতটা উত্তপ্ত, তার বায়ুমণ্ডলে কোন কোন মৌল রয়েছে এবং তার আলো কীভাবে তৈরি হচ্ছে।
কীভাবে?
উত্তরটি লুকিয়ে আছে নক্ষত্র থেকে পৃথিবীতে পৌঁছানো আলোর মধ্যে।
আর সেই আলোকে বিশ্লেষণ করে নক্ষত্রের ভৌত অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে এক বাঙালি বিজ্ঞানীর কাজ ছিল যুগান্তকারী। তাঁর তৈরি সমীকরণ জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে এমন একটি নতুন পথ খুলে দেয়, যার মাধ্যমে নক্ষত্রের বর্ণালীকে তাদের তাপমাত্রা ও আয়নিত অবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়।
তিনি মেঘনাদ সাহা।
তাঁর নাম আজ মূলত Saha ionisation equation-এর সঙ্গে উচ্চারিত হয়। কিন্তু মেঘনাদ সাহার গল্প শুধু একটি সমীকরণের গল্প নয়। এটি এমন এক মানুষের গল্প, যিনি অতি সাধারণ পারিবারিক পরিবেশ থেকে উঠে এসে আধুনিক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন।
ঢাকা জেলার ছোট্ট গ্রাম থেকে যাত্রা
১৮৯৩ সালের ৬ অক্টোবর মেঘনাদ সাহার জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকার কাছে শেওড়াতলী গ্রামে। তাঁর পরিবার ছিল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। কিন্তু উচ্চশিক্ষার পথে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ছিল বড় বাধা।
তবু তিনি থেমে থাকেননি।
নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি শিক্ষাজীবনে একের পর এক সাফল্য অর্জন করতে থাকেন। তাঁর ছাত্রজীবন কেটেছে এমন এক সময়ে, যখন ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক বিজ্ঞানচর্চা ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে।
আর সেই সময়েই কলকাতায় গড়ে উঠছিল একদল তরুণ বিজ্ঞানীর একটি অসাধারণ প্রজন্ম।
তাদের মধ্যে ছিলেন আরেক বাঙালি বিজ্ঞানী—
সত্যেন্দ্রনাথ বসু।
সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে বন্ধুত্ব
মেঘনাদ সাহা ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন সমসাময়িক এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী।
দুজনেই কলকাতায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের নতুন ধারণাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন।
তখন কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার মতো ধারণা ইউরোপের বিজ্ঞানকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে।
প্ল্যাঙ্ক, আইনস্টাইন, বোর—এক নতুন পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করছেন।
সাহা ও বসু এই নতুন জ্ঞানকে ভারতীয় শিক্ষাঙ্গনে নিয়ে আসার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন।
কিন্তু মেঘনাদ সাহার আগ্রহ ধীরে ধীরে একটি বিশেষ প্রশ্নের দিকে কেন্দ্রীভূত হলো—
নক্ষত্রের আলো দেখে কি তার ভেতরের অবস্থা বোঝা সম্ভব?
এই প্রশ্নই পরবর্তীতে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের দিকে নিয়ে যায়।
নক্ষত্রের আলো আসলে কী বলে?
নক্ষত্রকে আমরা সাধারণত আলোর বিন্দু হিসেবে দেখি।
কিন্তু সেই আলোকে যদি একটি প্রিজমের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়, তাহলে সেটি বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ছড়িয়ে পড়ে একটি বর্ণালী তৈরি করে।
বর্ণালীতে নির্দিষ্ট কিছু রেখা দেখা যায়।
এই রেখাগুলো আসলে নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে থাকা বিভিন্ন মৌল এবং তাদের পরমাণু ও আয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিন্তু একটি বড় সমস্যা ছিল।
একই মৌল বিভিন্ন নক্ষত্রে ভিন্ন ধরনের বর্ণালী রেখা তৈরি করতে পারে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—
কেন?
শুধু নক্ষত্রে কোনো মৌল আছে কি না জানলেই তো হবে না। জানতে হবে নক্ষত্রের তাপমাত্রা ও চাপের কারণে সেই মৌলের পরমাণুগুলোর কী অবস্থা তৈরি হচ্ছে।
মেঘনাদ সাহা এই সমস্যাটিকেই নতুনভাবে দেখলেন।
পদার্থবিদ্যা আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের মিলন
সাহা বুঝতে পেরেছিলেন, নক্ষত্রের বর্ণালী বোঝার জন্য শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞান যথেষ্ট নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে তাপগতিবিদ্যা, পরিসংখ্যানগত পদার্থবিজ্ঞান এবং আয়নায়ন তত্ত্ব।
নক্ষত্রের তাপমাত্রা যত বাড়ে, সেখানে পরমাণুগুলোর একটি অংশ ইলেকট্রন হারিয়ে আয়নে পরিণত হতে পারে।
এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ionisation বা আয়নায়ন।
অর্থাৎ নক্ষত্রের তাপমাত্রা ও চাপ নির্ধারণ করে সেখানে একটি নির্দিষ্ট মৌলের কত অংশ নিরপেক্ষ পরমাণু হিসেবে থাকবে এবং কত অংশ আয়নিত হবে।
সাহা এই সম্পর্কটিকে গাণিতিকভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করলেন।
এবং সেখান থেকেই জন্ম নিল তাঁর বিখ্যাত সমীকরণ।
Saha ionisation equation
১৯২০ সালের দিকে মেঘনাদ সাহা তাঁর আয়নায়ন তত্ত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশ করতে শুরু করেন।
তাঁর সমীকরণ দেখায়, একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে কোনো মৌলের পরমাণু এবং আয়নের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হয়।
সহজ ভাষায় বলা যায়—
নক্ষত্রের তাপমাত্রা জানলে বোঝা যায়, সেখানে কোনো মৌলের কতটা অংশ আয়নিত অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।
আর উল্টোভাবে, নক্ষত্রের বর্ণালীতে কোন ধরনের আয়ন বা পরমাণুর রেখা দেখা যাচ্ছে তা বিশ্লেষণ করে নক্ষত্রের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এটি ছিল জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের জন্য একটি বিশাল পরিবর্তন।
কারণ এর আগে নক্ষত্রের বর্ণালী পর্যবেক্ষণ করা হলেও সাহার তত্ত্ব সেই পর্যবেক্ষণকে ভৌত অবস্থার সঙ্গে পরিমাণগতভাবে যুক্ত করার শক্তিশালী পদ্ধতি প্রদান করে।
নক্ষত্রের তাপমাত্রা পড়ার নতুন উপায়
ধরা যাক, দুটি নক্ষত্রের বর্ণালীতে একই মৌলের রেখা দেখা গেল না।
এর অর্থ এই নয় যে একটি নক্ষত্রে মৌলটি নেই।
হতে পারে তার তাপমাত্রা এত বেশি বা এত কম যে সেই মৌলটি অন্য একটি আয়নিত অবস্থায় রয়েছে।
সাহার সমীকরণ এই পার্থক্য ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেয়।
ফলে বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রের বর্ণালী থেকে তাদের তাপমাত্রা, ionisation state এবং বায়ুমণ্ডলের ভৌত অবস্থা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পেতে শুরু করেন।
এ কারণেই মেঘনাদ সাহার কাজ আধুনিক stellar astrophysics-এর বিকাশে এত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপে গবেষণা, ভারতে নতুন বিজ্ঞান
মেঘনাদ সাহার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটে ইউরোপে।
তিনি ইউরোপের বিভিন্ন গবেষণাকেন্দ্র ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সেই সময়কার আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন।
১৯২০-এর দশকে তাঁর ionisation theory আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে পরিচিতি পেতে শুরু করে।
তবে সাহার জন্য বিজ্ঞান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের বিষয় ছিল না।
তিনি চেয়েছিলেন ভারতেও উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিবেশ তৈরি হোক।
এই চিন্তা তাঁর পরবর্তী জীবনের কাজেও বারবার ফিরে এসেছে।
একজন বিজ্ঞানী, যিনি শুধু নক্ষত্র নিয়ে ভাবেননি
মেঘনাদ সাহার বৈজ্ঞানিক আগ্রহ শুধু জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে সীমাবদ্ধ ছিল না।
তিনি বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পায়ন এবং দেশের বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সক্রিয় ছিলেন।
তাঁর বিশ্বাস ছিল, কোনো দেশের উন্নতির জন্য শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়।
প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা।
এই কারণে তিনি ভারতে বিজ্ঞান গবেষণার প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো উন্নয়নের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।
বিজ্ঞানকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা
সাহা ছিলেন এমন একজন বিজ্ঞানী যিনি গবেষণাগারের বাইরের বাস্তব সমস্যার প্রতিও আগ্রহী ছিলেন।
ভারতের নদী, বন্যা, বিদ্যুৎ, শিল্পায়ন এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের মতো বিষয় নিয়েও তিনি চিন্তা করেছেন।
বিশেষ করে নদী নিয়ন্ত্রণ ও বন্যা সমস্যার ক্ষেত্রে তিনি বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলভিত্তিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।
তাঁর কাছে বিজ্ঞান ছিল শুধু নক্ষত্রের রহস্য সমাধানের উপায় নয়।
বিজ্ঞান মানুষের জীবনও বদলাতে পারে।
সাহা ও ভারতের বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান
ভারতে আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার পরিবেশ তৈরিতে সাহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও পরে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তাঁর চারপাশে গড়ে ওঠে তরুণ বিজ্ঞানীদের একটি শক্তিশালী গবেষণা পরিবেশ।
পরবর্তীতে তিনি কলকাতায় Institute of Nuclear Physics প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন, যা পরে তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে Saha Institute of Nuclear Physics নামে পরিচিত হয়।
বিজ্ঞান গবেষণার জন্য একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান তৈরি করার এই প্রচেষ্টা তাঁর উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংসদেও গেলেন একজন বিজ্ঞানী
মেঘনাদ সাহার জীবনের আরেকটি অস্বাভাবিক অধ্যায় হলো তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ।
১৯৫২ সালে তিনি ভারতের সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
তবে তাঁর রাজনৈতিক আগ্রহ ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে বেশি ছিল বিজ্ঞান ও উন্নয়নকেন্দ্রিক।
তিনি সংসদে বিজ্ঞান শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণার মতো বিষয় নিয়ে কথা বলতেন।
একজন তাত্ত্বিক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী সংসদে বসে দেশের নদী ও বিদ্যুৎ নিয়ে আলোচনা করছেন—দৃশ্যটি অস্বাভাবিক মনে হলেও সাহার কাছে বিজ্ঞান ও সমাজ আলাদা কোনো জগত ছিল না।
নোবেল পুরস্কার কি তিনি পেয়েছিলেন?
মেঘনাদ সাহার নামের সঙ্গে নোবেল পুরস্কারের প্রসঙ্গ মাঝে মাঝে উঠে আসে।
কিন্তু সত্য হলো, তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি।
তবুও তাঁর কাজের প্রভাব এত গভীর যে আধুনিক জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে তাঁর নাম স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত।
Saha ionisation equation আজও নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডল ও বর্ণালী বিশ্লেষণের ইতিহাসে একটি মৌলিক ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
একজন বিজ্ঞানীর গুরুত্ব সবসময় পুরস্কারের সংখ্যায় মাপা যায় না।
কখনো একটি সমীকরণই একজন বিজ্ঞানীর নামকে শত বছর ধরে বাঁচিয়ে রাখে।
শেষ জীবন
মেঘনাদ সাহা ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং দেশের বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি এমন একটি প্রজন্মের অংশ ছিলেন, যারা ঔপনিবেশিক ভারত থেকে আধুনিক ভারতের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরিতে কাজ করেছিলেন।
মেঘনাদ সাহা কেন আজও গুরুত্বপূর্ণ?
আজ আমরা যখন কোনো দূরবর্তী নক্ষত্রের তাপমাত্রা সম্পর্কে জানতে পারি, তখন মনে রাখা দরকার—সেই নক্ষত্রের কাছে গিয়ে থার্মোমিটার বসিয়ে তাপমাত্রা মাপা হয়নি।
তার আলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আলোর বর্ণালীতে দেখা গেছে কোন কোন পরমাণু ও আয়নের উপস্থিতির চিহ্ন।
আর সেই চিহ্নকে নক্ষত্রের তাপমাত্রা ও ভৌত অবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পেছনে মেঘনাদ সাহার কাজ একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে।
তাঁর সমীকরণ আমাদের শিখিয়েছিল, মহাবিশ্বের সবচেয়ে দূরের বস্তুগুলোর সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সম্ভব—যদি আমরা তাদের পাঠানো আলোকে সঠিকভাবে পড়তে পারি।
মেঘনাদ সাহার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তাই হয়তো শুধু একটি সমীকরণ তৈরি করা নয়।
তিনি আমাদের দেখিয়েছিলেন—
নক্ষত্র কথা বলে।
তাদের ভাষা আলো।
আর সেই আলোর ভাষা পড়ার পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন একজন বাঙালি বিজ্ঞানী।
মেঘনাদ সাহা।
এক নজরে মেঘনাদ সাহা
পুরো নাম: মেঘনাদ সাহা (Meghnad Saha) ফজলুর রহমান খান: যে বাঙালি প্রকৌশলী আকাশচুম্বী ভবনকে নতুনভাবে দাঁড়াতে শিখিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: যে ক্যাম্পাসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস
জন্ম: ৬ অক্টোবর ১৮৯৩, শেওড়াতলী, ঢাকা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি
মৃত্যু: ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬, নয়াদিল্লি, ভারত
পেশা: পদার্থবিজ্ঞানী ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী
প্রধান ক্ষেত্র: জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান, তাপীয় আয়নায়ন ও বর্ণালী বিশ্লেষণ
বিশেষ পরিচিতি: Saha ionisation equation
প্রধান অবদান: নক্ষত্রের তাপমাত্রা ও ভৌত অবস্থার সঙ্গে তাদের বর্ণালীতে পরমাণু ও আয়নের উপস্থিতির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা
পূর্ববর্তী
সম্পর্কিত সংবাদ
জীবনী ও সাক্ষাৎকার
লীলা মজুমদার: শিশুসাহিত্যের যে অভিভাবক ‘টংলিং’ আর ‘হলদে পাখির পালক’-এ বাংলার ছোটদের স্বপ্নের রাজ্য গড়ে দিলেন
জীবনী ও সাক্ষাৎকার
আশাপূর্ণা দেবী: যে গৃহবধূ কলমের জোরে বাংলা সাহিত্যে এক বিপ্লব ঘটিয়ে গেলেন
জীবনী ও সাক্ষাৎকার
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: রাঢ়বাংলার মাটি-মানুষের সেই মহাকথাকার, যিনি সাহিত্যের জগতে এক নতুন বিশ্ব গড়ে তুলেছিলেন

জীবনী ও সাক্ষাৎকার
বিষ্ণু দে: আধুনিকতার কঠিন পথে যে কবি দুর্গমতার মধ্যে সুরের সন্ধান পেয়েছিলেন

জীবনী ও সাক্ষাৎকার
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: ধ্রুপদী রীতির কবি, যে নির্মাণ করেছিলেন আধুনিকতার এক কঠিন দুর্গ
জীবনী ও সাক্ষাৎকার
বুদ্ধদেব বসু: আধুনিকতার অগ্রদূত, যে 'কবিতাভবন' বাংলা সাহিত্যকে নতুন ঠিকানা দিয়েছিল
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
