এইচএসসিতে পাসের হার ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, জিপিএ-৫ কমেছে দুই বছরে ৭২ শতাংশ

পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, ফেল ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩; পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা, জিপিএ-৫-এ ছাত্ররা
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই গত বছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে। পাসের হার নেমে এসেছে গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এক নজরে এইচএসসি ও সমমানের ফল ২০২৬
চলতি বছরের ফলাফলে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। সব মিলিয়ে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছিলেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন ছাত্রী। অন্যদিকে, নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ও নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক নয়; অনুপস্থিতির কারণে এ দুই পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে।
সারা দেশে ২ হাজার ৬৯১টি কেন্দ্রে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।
দুই বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ৭২ শতাংশের বেশি
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা টানা দুই বছর ধরে কমছে। ২০২৪ সালে যেখানে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন। শতকরা হিসাবে এ হ্রাস ৭২ শতাংশেরও বেশি।
২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কম।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছিল ৭৬ হাজার ৮১৪ জন। পরের বছরও সেই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ শুধু এক বছরের ফল নয়, পরপর দুই বছরের ফলাফলে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পাসের হার ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
জিপিএ-৫ কমার পাশাপাশি এবার সামগ্রিক পাসের হারেও বড় পতন হয়েছে। ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ সালের পর এই প্রথম পাসের হার এত নিচে নেমেছে। ২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৩৬ জন শিক্ষার্থী। পরবর্তী বছরগুলোতে পাসের হার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ২০০৬ সালে তা ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশে পৌঁছায়।
২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে পাসের হারে ওঠানামা দেখা যায়। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা কমে ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে আসে। পরের বছর, ২০১৯ সালে পাসের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে কোনো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। এরপর ২০২২ সালে পাসের হার কমে ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৫ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে তা আরও কমে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ হয়। চলতি বছর সেই হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে।
বোর্ডভিত্তিক ফল: পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা
১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে পাসের হারে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে—৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হার নিচে দেওয়া হলো—
| শিক্ষা বোর্ড | পাসের হার |
|---|---|
| ঢাকা | ৬১.৮০% |
| রাজশাহী | ৪৫.০৬% |
| কুমিল্লা | ৪৮.০৪% |
| যশোর | ৪৪.৯২% |
| চট্টগ্রাম | ৫২.০৭% |
| বরিশাল | ৪৪.৮৪% |
| সিলেট | ৫০.৯০% |
| দিনাজপুর | ৪৫.৯৮% |
| ময়মনসিংহ | ৫১.৪৪% |
| মাদ্রাসা | ৬১.০৭% |
| কারিগরি | ৪৯.৪৩% |
বোর্ডভিত্তিক জিপিএ-৫-এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বোর্ডে ৫ হাজার ৯৫০ জন, রাজশাহী বোর্ডে ৪ হাজার ৫২০ জন, যশোর বোর্ডে ৩ হাজার ২২৮ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ২ হাজার ৯৫৩ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ৩১৩ জন এবং সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বোর্ডের জিপিএ-৫-এর পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা একই তথ্যসূত্রে পাওয়া যায়নি।
ছাত্রীরা পাসের হারে এগিয়ে, জিপিএ-৫ বেশি ছাত্রদের
এবারের ফলাফলে পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ছাত্রদের সংখ্যা বেশি।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। তাঁদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।
অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।
তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। এবার ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ছাত্রীদের মধ্যে এ সংখ্যা ১৯ হাজার ৭২১। অর্থাৎ জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্ররা ছাত্রীদের চেয়ে ৬৪২ জন এগিয়ে রয়েছেন।
গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৩২ হাজার ৫৩ জন এবং ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন। সে বছর ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি থাকলেও এবার সেই প্রবণতার পরিবর্তন হয়েছে।
সাধারণ বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার বেশি
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এ বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার মানবিক বিভাগের তুলনায় ৩০ শতাংশ পয়েন্টেরও বেশি। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাসের হারও মানবিক বিভাগের চেয়ে বেশি। তবে বিভাগভিত্তিক এই হিসাব কেবল নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য; মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এই শ্রেণিবিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ফল
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় এবার ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ২৮ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ২২২ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম/বিএমটি, ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষায় ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ১৮০ জন এবং ছাত্রী ৭০৬ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
সব মিলিয়ে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ হাজার ২৫০ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তিন ধরনের বোর্ডের সংখ্যা যোগ করলে মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৮৪ জন।
২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি
এবারের ফলাফলে দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।
অন্যদিকে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি। ফলে একদিকে যেমন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, অন্যদিকে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এই পরিসংখ্যান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্যের চিত্র তুলে ধরে।
ইংরেজি ও আইসিটিতে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য
বিষয়ভিত্তিক ফলাফলেও ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটি বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। দুই বিষয়ে মোট অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১।
সামগ্রিকভাবে এবার ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন বলে ফল প্রকাশ-পরবর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, পরীক্ষার তারিখ, আবেদনপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য নিয়মকানুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই, শেষ হয় সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। প্রথমে লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্টের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। ফলে অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হতে বেশি সময় লাগে।
পরীক্ষার ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার পর ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অনলাইন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এসএমএসের মাধ্যমে নিজেদের ফল জানতে পারছেন।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ থেকে ৭ নভেম্বর
প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ আবেদন শুরু হবে এবং চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে অনলাইনে। কোনো ধরনের ম্যানুয়াল বা সরাসরি আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আবেদনের নিয়ম, ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি এবং অন্যান্য নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে নিজ নিজ বোর্ডের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফল জানবেন যেভাবে
শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:
HSC [স্পেস] রোল নম্বর [স্পেস] 2026
এরপর মেসেজটি পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
ফলাফলের সামগ্রিক চিত্র কী বলছে
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে। প্রথমত, পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দ্বিতীয়ত, দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭২ শতাংশেরও বেশি কমেছে। তৃতীয়ত, পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্রদের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও এবারের ফলাফলের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলাফলের এই পরিসংখ্যান শিক্ষার্থীদের অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি ও সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ
বাংলা শিক্ষা
‘গাইড বইওয়ালারা সাবধানে থাকবেন, এবার ধরা খাবেন’: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি

বাংলা শিক্ষা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন

বাংলা শিক্ষা
বিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
