'ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড' (১৯৯৩) : একটি সিনেমা, যা একটি রাতের গল্প বলে, কিন্তু একটি প্রজন্মের অনুভূতি ধরে রাখে
Movies you should watch before college
Editorial Team২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:১৭ PM০ ভিউ৪ মিনিট পড়া
শেয়ার:
হাই স্কুলের শেষ দিনটা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে এক অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে আসে। একদিকে আনন্দ—আর পড়াশোনা নেই, পরীক্ষা নেই, একঘেয়ে রুটিন নেই। অন্যদিকে ভয়—এখন কী হবে? যে বন্ধুদের সাথে এত বছর কাটালাম, তারা কি থাকবে? যে জীবনটা এত চেনা ছিল, সেটা কি ফিরে আসবে? রিচার্ড লিংকলেটার পরিচালিত 'ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড' (১৯৯৩) ঠিক এই অনুভূতিটাই ধরে রাখে। এটি ১৯৭৬ সালের একটি শেষ স্কুল দিনের গল্প, কিন্তু এর ভেতরের আবেগ আজও একই রকম। সিনেমাটি অস্টিন, টেক্সাসে চিত্রায়িত, এবং এর রানটাইম প্রায় ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট।
সিনেমার কোনো বড় গল্প নেই। এটি একটি রাতের গল্প—কয়েকজন হাই স্কুল ছাত্র, যারা স্কুলের শেষ দিনে একসাথে আড্ডা দেয়, গাড়ি চালায়, পার্টি করে, আর নিজেদের মধ্যে কথা বলে। কিন্তু সেই সরলতার মধ্যেই সিনেমার সৌন্দর্য। এটি দেখায়, তারুণ্যের আসল সৌন্দর্য বড় ঘটনায় না, ছোট ছোট মুহূর্তে। সিনেমাটি 'আমেরিকান গ্রাফিটি' এবং 'অ্যানিমাল হাউস'-এর সাথে তুলনা করা হয়, কারণ এটি তারুণ্যের উচ্চতা ও নিম্নতা—পার্টি, বন্ধুত্ব, আর মাদকের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
পিংক আর মিচ: দুই প্রজন্মের মুখোমুখি
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র র্যান্ডাল "পিংক" ফ্লয়েড, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসন লন্ডন। পিংক একজন ফুটবল তারকা, যে স্টোনার, জক আর নার্ড—সব দলের সাথেই মিশতে পারে। কিন্তু তার সামনে একটা সংকট আসে যখন কোচ তাকে একটি "নো ড্রাগস" প্লেজে সাইন করতে বলেন, কারণ সে গাঁজা খায়। পিংক এই প্লেজে সাইন করতে অস্বীকার করে, যা তার চরিত্রের স্বাধীনচেতা মনোভাব প্রকাশ করে।
অন্যদিকে মিচ ক্র্যামার, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওয়াইলি উইগিন্স। মিচ একজন ইনকামিং ফ্রেশম্যান, যে হাই স্কুলে ঢুকছে, আর সিনিয়ররা তাকে নানা রকম র্যাগিং করে। এই র্যাগিংয়ের নেতৃত্বে আছে ও'ব্যানিয়ন (বেঞ্চ অ্যাফ্লেক), যে ফ্রেশম্যানদের লাঠি দিয়ে পেটায়। কিন্তু পিংক মিচকে রক্ষা করে এবং তাকে পার্টিতে নিয়ে যায়, কারণ পিংক মিচকে দেখে নিজের ছোটবেলার প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই দুই চরিত্র তুলে ধরে—প্রতিটি প্রজন্ম আগের প্রজন্মের ভুল পুনরাবৃত্তি করে। র্যাগিং মানে শুধু মজা না, র্যাগিং মানে কারো কষ্ট। শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা হলো—ঐতিহ্য মানে সব সময় সঠিক না, কখনও কখনও ঐতিহ্য ভাঙাও জরুরি।
উডারসন: অদ্ভুত ছেলেটির জায়গা
সিনেমার সবচেয়ে মজার এবং সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র উডারসন, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাথিউ ম্যাককনাঘে। এই চরিত্রটি ম্যাককনাঘের ক্যারিয়ার-গড়া অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়, যদিও মূলত এটি একটি ছোট চরিত্র হওয়ার কথা ছিল। উডারসন একজন স্নাতক, যে এখনও হাই স্কুলের আড্ডায় ঘোরে, কারণ সে বুঝতে পারে না সে এখন কী করবে। তার বিখ্যাত সংলাপ—"আমি বড় হতে থাকি, তারা একই বয়সে থাকে" (I get older, they stay the same age)—সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত লাইন।
শিক্ষার্থীদের জন্য উডারসন চরিত্রটি শেখায়—বড় হওয়া মানে শুধু বয়স বাড়ানো না, বড় হওয়া মানে দায়িত্ব নেওয়া। উডারসন বড় হয়েছে, কিন্তু দায়িত্ব নিতে পারেনি, তাই সে হাই স্কুল জীবনেই আটকে আছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা হলো, কলেজে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করা মানে পুরনো জীবন ছেড়ে দেওয়া, আর সেটাই স্বাভাবিক।
সাউন্ডট্র্যাক: সিনেমার প্রাণ
'ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড' সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সাউন্ডট্র্যাক। এয়ারোস্মিথ, ব্ল্যাক স্যাবাথ, ডিপ পার্পল, কিস—সেই সময়ের সেরা গানগুলো সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যকে জীবন্ত করে তোলে। "সুইট ইমোশন," "স্কুল'স আউট," "স্ট্র্যাংলহোল্ড," "ডু ইউ ফিল লাইক উই ডু," "প্যারানয়েড," "স্লো রাইড," "টুইস্ট অ্যান্ড শাউট"—সব গানই সেই সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে। সিনেমার ট্যাগলাইনই বলে দেয়—"এটি ছিল ১৯৭৬ সালের শেষ দিন, একটি সময় যা তারা কখনও ভুলবে না... যদি তারা মনে রাখতে পারে"।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই সংগীত শেখায়—সংগীত শুধু বিনোদন না, সংগীত স্মৃতি। প্রতিটি প্রজন্মের নিজের গান থাকে, যেগুলো শুনলে সেই সময় ফিরে আসে। শিক্ষার্থীদের জন্যও তাদের সময়ের গান থাকবে, যা একদিন তাদের এই দিনগুলো মনে করিয়ে দেবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য কেন এই সিনেমা জরুরি
'ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড' শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি কারণ এটি দেখায়—তারুণ্য মানে শুধু পড়াশোনা না, তারুণ্য মানে বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা, আর নিজেকে খোঁজা। এই সিনেমায় কোনো বড় নাটক নেই, কোনো বড় বার্তা নেই, শুধু এক রাতের গল্প—কিন্তু সেই এক রাতেই একটি প্রজন্মের গল্প লুকিয়ে আছে।
এই সিনেমা আরও শেখায়, প্রতিটি প্রজন্ম আগের প্রজন্মের থেকে আলাদা, কিন্তু প্রতিটি প্রজন্মের অনুভূতি একই—ভয়, আনন্দ, অনিশ্চয়তা, আর বন্ধুত্বের প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা হলো, তাদের সমস্যা নতুন না, তাদের অনুভূতি নতুন না, সবাই এই সময়টা পার করেছে।
সিনেমাটি আরেকটি জরুরি শিক্ষা দেয়—নিজের পথ নিজে বেছে নেওয়া। পিংক শেষে "নো ড্রাগস" প্লেজে সাইন করতে অস্বীকার করে, কারণ সে জানে সে কী চায়। শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা হলো, ঐতিহ্য বা চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে নিজের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া।
শেষ কথা
'ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড' শুধু একটি হাই স্কুল সিনেমা নয়, এটি একটি প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি। এটি শেখায়—তারুণ্য ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তারুণ্যের স্মৃতি চিরস্থায়ী। ছুটির দিনে বা পড়াশোনার ফাঁকে এই সিনেমাটা দেখলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাই স্কুল জীবনের কথা ভাবতে পারবে, সেই শেষ দিনগুলোর কথা মনে করতে পারবে।
কারণ কিছু সিনেমা বড় গল্প বলে, আর কিছু সিনেমা শুধু একটা সময় ধরে রাখে। 'ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড' সেই ধরনের একটি সিনেমা, যা দেখার পর মনে হয়—হাই স্কুল জীবন চলে যায় না, হাই স্কুল জীবন শুধু নতুন রূপে ফিরে আসে।
পূর্ববর্তী
'দ্য পেপার চেজ' (১৯৭৩): একটি সিনেমা, যা আইন স্কুলের প্রথম বছরের গল্প বলে, কিন্তু প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভয় তুলে ধরে
পরবর্তী'স্ট্যান্ড বাই মি' (১৯৮৬) : একটি সিনেমা, যা শেখায় বারো বছর বয়সের বন্ধুত্বই জীবনের সেরা বন্ধুত্ব
সম্পর্কিত সংবাদ

খেলাধুলা ও বিনোদন
'আ বিউটিফুল মাইন্ড' (২০০১): একটি সিনেমা, যা শেখায় মেধা আর মানসিক স্বাস্থ্য একসাথে চলে

খেলাধুলা ও বিনোদন
'দ্য এজ অব সেভেনটিন' (২০১৬) : একটি সিনেমা, যা শেখায় কিশোর বয়সের একাকীত্ব স্বাভাবিক

খেলাধুলা ও বিনোদন
'টয় স্টোরি ৩' (২০১০) : একটি অ্যানিমেশন, যা শেখায় বড় হওয়া মানে ছেড়ে দেওয়া

খেলাধুলা ও বিনোদন
'দ্য থিওরি অব এভরিথিং' (২০১৪) : একটি সিনেমা, যা শেখায় মেধা আর ভালোবাসা একসাথে চলে

খেলাধুলা ও বিনোদন
'দ্য ব্রেকফাস্ট ক্লাব' (১৯৮৫) : একটি সিনেমা, যা শেখায় কেউ আসলে স্টেরিওটাইপ নয়

খেলাধুলা ও বিনোদন
'স্ট্যান্ড বাই মি' (১৯৮৬) : একটি সিনেমা, যা শেখায় বারো বছর বয়সের বন্ধুত্বই জীবনের সেরা বন্ধুত্ব
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
