অ্যালগরিদমস টু লিভ বাই: যে বই কম্পিউটার সায়েন্স দিয়ে জীবন সহজ করে
Editorial Team২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ৯:০০ AM০ ভিউ৪ মিনিট পড়া
শেয়ার:

যে বই প্রযুক্তিকে জীবনের সাথে মেলায়
কলেজে পা রাখার আগে আপনি যদি একটি বই পড়তে চান, যা আপনাকে শেখাবে কীভাবে কম্পিউটার সায়েন্সের অ্যালগরিদম দিয়ে দৈনন্দিন জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে সেটি হলো ব্রায়ান ক্রিশ্চিয়ান ও টম গ্রিফিথসের লেখা 'অ্যালগরিদমস টু লিভ বাই'। ২০১৬ সালে প্রকাশিত এই বইটি সঙ্গে সঙ্গে নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার হয়ে ওঠে এবং সারা দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। এটি ২০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয় এবং বিল গেটস, ড্যানিয়েল কানেমানসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির প্রশংসা অর্জন করে।
কেন একটি কম্পিউটার সায়েন্সের বই এত জনপ্রিয়? কারণ এটি দেখায় যে কম্পিউটার যে সমস্যাগুলো সমাধান করে, মানুষও প্রতিদিন সেই একই সমস্যার মুখোমুখি হয়। কোন কাজ আগে করবেন, কখন থামবেন, কাকে বেছে নেবেন, কীভাবে সময় ভাগ করবেন, এই সব প্রশ্নের উত্তর কম্পিউটার বিজ্ঞানে রয়েছে। লেখকরা দেখান, কম্পিউটার সায়েন্স কেবল যন্ত্রের বিজ্ঞান নয়; এটি সিদ্ধান্তের বিজ্ঞান।
গল্প: ক্রিশ্চিয়ান ও গ্রিফিথসের যাত্রা
ব্রায়ান ক্রিশ্চিয়ান ছিলেন একজন লেখক ও প্রোগ্রামার, যিনি কম্পিউটার সায়েন্স ও দর্শন নিয়ে কাজ করতেন। টম গ্রিফিথস ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, যিনি কগনিটিভ সায়েন্স ও কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে গবেষণা করতেন। দুজনে মিলে এই বই লেখেন।
বইটির প্রতিটি অধ্যায় একটি কম্পিউটার অ্যালগরিদম দিয়ে শুরু হয়, তারপর দেখায় কীভাবে সেই অ্যালগরিদম দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করা যায়। যেমন, কম্পিউটার কীভাবে ফাইল সাজায়, তা দিয়ে আপনি আপনার ঘর কীভাবে সাজাবেন তা শিখতে পারেন। কম্পিউটার কীভাবে অপেক্ষা করে, তা দিয়ে আপনি কখন থামবেন তা শিখতে পারেন। কম্পিউটার কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে, তা দিয়ে আপনি আপনার কাজের তালিকা কীভাবে সাজাবেন তা শিখতে পারেন।
লেখকরা দেখান, কম্পিউটার বিজ্ঞান কেবল প্রোগ্রামিং নয়; এটি একটি চিন্তার পদ্ধতি, যা জীবনকে সহজ করে।
মূল থিম: যা আপনাকে ভাবাবে
প্রথম শিক্ষা হলো অপ্টিমাল স্টপিং। কম্পিউটার বিজ্ঞানে একটি বিখ্যাত সমস্যা হলো, কখন থামবেন? আপনি যদি একটি ভালো চাকরি খুঁজছেন, কতটি ইন্টারভিউ দেওয়ার পর প্রথম ভালো চাকরিটি নেবেন? আপনি যদি একটি ভালো বাসা খুঁজছেন, কতটি বাসা দেখার পর প্রথম ভালো বাসাটি ভাড়া নেবেন? গণিত বলে, ৩৭ শতাংশ নিয়ম। অর্থাৎ, প্রথম ৩৭ শতাংশ অপশন দেখুন, তারপর প্রথম সেই অপশনটি নিন যা আগের সবগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। এই নিয়ম জীবনেও কাজে লাগে।
দ্বিতীয় শিক্ষা হলো এক্সপ্লোর বনাম এক্সপ্লয়েট। কম্পিউটার বিজ্ঞানে একটি দ্বন্দ্ব হলো, আপনি কি নতুন কিছু চেষ্টা করবেন, নাকি যা কাজ করছে তা ধরে রাখবেন? এই দ্বন্দ্ব জীবনেও আছে। আপনি কি নতুন বন্ধু খুঁজবেন, নাকি পুরনো বন্ধুদের ধরে রাখবেন? আপনি কি নতুন দক্ষতা শিখবেন, নাকি যা জানেন তা নিখুঁত করবেন? উত্তর হলো ভারসাম্য। প্রথমে অন্বেষণ করুন, পরে যা ভালো তা কাজে লাগান।
তৃতীয় শিক্ষা হলো শিডিউলিং। কম্পিউটার কীভাবে কাজ সাজায়, তা দিয়ে আপনি আপনার দিন কীভাবে সাজাবেন তা শিখতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে করুন। ছোট কাজ পরে করুন। সময়ের মূল্য বুঝুন।
চতুর্থ শিক্ষা হলো ক্যাশিং। কম্পিউটার কীভাবে দ্রুত তথ্য রাখে, তা দিয়ে আপনি কীভাবে মনে রাখবেন তা শিখতে পারেন। বারবার দরকার হয় এমন তথ্য মাথায় রাখুন। কম দরকার হয় এমন তথ্য লিখে রাখুন।
পঞ্চম শিক্ষা হলো ওভারফিটিং। কম্পিউটার যদি অতিরিক্ত শেখে, তাহলে সে নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে পারে না। মানুষও তাই। যদি আপনি অতিরিক্ত পরিকল্পনা করেন, তাহলে পরিবর্তনের মুখে ভেঙে পড়বেন। তাই নমনীয় থাকুন, বদলান।
ষষ্ঠ শিক্ষা হলো র্যান্ডমাইজেশন। কখনো কখনো এলোমেলো সিদ্ধান্ত ভালো ফল দেয়। কারণ এটি আপনাকে নতুন সুযোগের সাথে পরিচয় করায়, যা পরিকল্পনায় আসে না।
কেন এই বই কলেজের আগে পড়া উচিত
কলেজে পা রাখার আগে আপনি অসংখ্য সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবেন। কোন কোর্স নেবেন, কোন ক্লাবে যোগ দেবেন, কার সাথে বন্ধুত্ব করবেন, কীভাবে সময় ভাগ করবেন। এই বই আপনাকে সেই সিদ্ধান্তের হাতিয়ার দেবে। এটি আপনাকে শেখাবে কীভাবে সীমিত সময়ে সর্বোচ্চ ফল পাবেন, কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবেন, কীভাবে থামবেন।
এই বইটি আরও শেখাবে যে কম্পিউটার সায়েন্স কেবল প্রোগ্রামারদের জন্য নয়; এটি সবার জন্য। কারণ জীবন একটি অ্যালগরিদম, আর আপনি সেই অ্যালগরিদমের প্রধান programmer।
কীভাবে পড়বেন
বইটি মজার, দ্রুত পড়া যায়। কিন্তু প্রতিটি অধ্যায়ে থামুন। জিজ্ঞেস করুন, এই অ্যালগরিদমটি আমার জীবনে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়? আমার কোন সিদ্ধান্তে এটি সাহায্য করতে পারে? একটি ডায়েরি রাখুন। প্রতিটি অধ্যায়ের পর লিখুন, আজ কোন সিদ্ধান্তে এই অ্যালগরিদম কাজে লাগাতে পারতাম?
উপসংহার
অ্যালগরিদমস টু লিভ বাই কেবল একটি কম্পিউটার সায়েন্সের বই নয়; এটি একটি জীবনের নির্দেশিকা, একটি সিদ্ধান্তের হাতিয়ার, একটি চিন্তার পদ্ধতি। ব্রায়ান ক্রিশ্চিয়ান ও টম গ্রিফিথস প্রমাণ করেছেন যে কম্পিউটারের সমস্যা ও মানুষের সমস্যা একই; সমাধানও একই। তারা দেখিয়েছেন যে অ্যালগরিদম কেবল কোড নয়; অ্যালগরিদম জীবন।
কলেজে পা রাখার আগে এই বইটি পড়ুন। এটি আপনাকে শেখাবে কীভাবে সীমিত সময়ে সর্বোচ্চ ফল পাবেন, কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবেন, কীভাবে থামবেন, কীভাবে নতুন কিছু চেষ্টা করবেন। কারণ শেষ বিচারে, জীবন একটি অ্যালগরিদম, আর আপনি সেই অ্যালগরিদমের প্রধান programmer।
পূর্ববর্তী
ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড: যে বই স্বাধীনতার মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে
পরবর্তীগানস, জার্মস অ্যান্ড স্টিল: মানব ইতিহাসের এক বিশাল প্রশ্নের উত্তর
সম্পর্কিত সংবাদ
খেলাধুলা ও বিনোদন
আউটলায়ার্স: সাফল্যের আসল গল্প
খেলাধুলা ও বিনোদন
সেপিয়েন্স: মানবজাতির এক সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
খেলাধুলা ও বিনোদন
ক্রুশিয়াল কনভার্সেশনস (Crucial Conversations): যে বই আপনাকে শেখাবে কঠিন কথোপকথন সামলাতে

খেলাধুলা ও বিনোদন
গানস, জার্মস অ্যান্ড স্টিল: মানব ইতিহাসের এক বিশাল প্রশ্নের উত্তর
খেলাধুলা ও বিনোদন
ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড: যে বই স্বাধীনতার মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে
খেলাধুলা ও বিনোদন
মেডিটেশনস: যে বই আপনাকে শেখাবে চাপের মধ্যেও শান্ত থাকতে
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
