২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে চারটি নতুন পাঠ্যবই, কোন বইয়ে কী থাকছে?
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি নতুন পাঠ্যবই চালু করার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দময় শিক্ষা) এবং ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নতুন বইগুলোতে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, শারীরিক সুস্থতা, আনন্দময় শেখা, ব্যবহারিক দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত নম্বরভিত্তিক পরীক্ষার পরিবর্তে এসব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ফলে বিষয়গুলোতে মুখস্থবিদ্যার চেয়ে অংশগ্রহণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বেশি হতে পারে।
চতুর্থ শ্রেণির বই
১. বাংলাদেশের সংস্কৃতি
চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে সংস্কৃতির ধারণা, ব্যক্তিজীবনে সংস্কৃতির প্রভাব এবং বাংলাদেশের জাতীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব সম্পর্কে আলোচনা থাকবে। পাশাপাশি একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস এবং সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাবে।
শিশুদের নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি অন্যের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল করে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের পাঠ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বইটির লক্ষ্য শুধু বিভিন্ন দিবস বা উৎসবের নাম শেখানো নয়; বরং এসব আয়োজনের ঐতিহাসিক ও সামাজিক তাৎপর্য বোঝার সুযোগ তৈরি করা।
২. খেলাধুলা
চতুর্থ শ্রেণির দ্বিতীয় নতুন বই ‘খেলাধুলা’। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি খেলাধুলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দলগত কাজ, নিয়ম মেনে চলা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দাবার মতো খেলায় কৌশল নির্ধারণ ও চিন্তাশক্তির চর্চা হয়, আর ফুটবল, ক্রিকেট বা কাবাডির মতো খেলায় দলগত সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। নতুন বইটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন খেলার নিয়ম ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।
ষষ্ঠ শ্রেণির বই
৩. লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা)
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটির মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করা এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ ও অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করা। বইটিতে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, প্রযুক্তির সঙ্গে খেলাধুলা, নতুন কিছু তৈরি করা, পরিচ্ছন্ন থাকা, আনন্দের দিনগুলো উদ্যাপন এবং নিজের ও অন্যের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ ধরনের পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সৃজনশীলতা এবং সুস্থ সামাজিক সম্পর্কের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে। প্রযুক্তির ব্যবহারকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শেখা ও নতুন কিছু তৈরির কাজে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৪. আমার কারিগরি শিক্ষা
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরা হবে। বইটির বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে কারিগরি শিক্ষার পরিচিতি, আমাদের চারপাশের প্রযুক্তি ও নতুন পৃথিবী, সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান খোঁজা, ছোট উদ্যোগের বড় সম্ভাবনা, ভবিষ্যতের পেশা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপন। বইটিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ শব্দের ব্যাখ্যাও থাকবে।
এই বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি কীভাবে দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে, সে সম্পর্কে ধারণা পাবে। একই সঙ্গে কোনো সমস্যা চিহ্নিত করা, তার সম্ভাব্য সমাধান খোঁজা এবং ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন কিছু করার মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত হবে। ভবিষ্যতে কোন পেশায় কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হতে পারে, সে সম্পর্কেও তাদের প্রাথমিক ধারণা তৈরি হবে।
পরীক্ষার চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্য নয়
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, নতুন বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত একাডেমিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে যুক্ত করা হচ্ছে না। এসব বিষয়ে প্রচলিত নম্বরভিত্তিক পরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ধারাবাহিক মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চারটি বইয়ের বিষয়বস্তু বিবেচনায় দেখা যায়, এগুলো শিক্ষার্থীদের প্রচলিত পাঠ্যবিষয়ের বাইরে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করবে। তবে উদ্যোগটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বইয়ের চূড়ান্ত বিষয়বস্তু, শিক্ষক প্রস্তুতি এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পদ্ধতির ওপর।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ২৯ অক্টোবর, বিস্তারিত জানা যাবে ২৬ অক্টোবর
পরবর্তী২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার টেস্টের সময়সূচি ঘোষণা, ফল প্রকাশের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর
সম্পর্কিত সংবাদ
বাংলা শিক্ষা
‘গাইড বইওয়ালারা সাবধানে থাকবেন, এবার ধরা খাবেন’: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
নভেম্বরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন দিনের ছুটি

বাংলা শিক্ষা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ নভেম্বর থেকে
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন
বাংলা শিক্ষা
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, চলবে চার দিন

বাংলা শিক্ষা
বিটিসির মাধ্যমে কলেজে ভর্তি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে নতুন নির্দেশনা
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
