২৪৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধ, তালিকায় আরও ১১২
Editorial Team২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১১:০৮ AM০ ভিউ৩ মিনিট পড়া
শেয়ার:

ভর্তি বন্ধ করা ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই বেসরকারি। এর মধ্যে ১৩৭টি ডিপ্লোমা পর্যায়ের এবং ১০৯টি এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ের। এর বাইরে আরও ১১২টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের পাশাপাশি পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া দেশের ২৪৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে টানা তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি। বন্ধ হওয়া সব প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে ডিপ্লোমা পর্যায়ের ১৩৭টি এবং এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ের ১০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের আরও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও ১১২ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রক্রিয়াধীন
ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৮৬টি এবং এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ের ২৬টি প্রতিষ্ঠানে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ১ অক্টোবরের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানেও টানা তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।
এর আগে ৬২১ প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না বা শিক্ষা কার্যক্রম নেই। এর মধ্যে ৪৪৩টি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টিতে দাখিল (ভোকেশনাল) পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পাওয়া দেশের ৩ হাজার ৪৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২১টিতে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব অনেক প্রতিষ্ঠান দিয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান জবাব দেয়নি। এখন এগুলোর তালিকা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীতিমালা কী বলে
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদনের শর্তে বলা আছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে পরপর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে তার পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করা হবে। এ ছাড়া ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি দেওয়া-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী, নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরিসহ পাঠদানের অনুমোদনের সময় আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদন নিয়ে বোর্ড পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে।
একটি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের একটি রংপুর সদরের মহাদেবপুর এলাকার মেট্রোপলিটন প্রাইভেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, তিন শিক্ষাবর্ষ ধরে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। তবে এর আগে ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থী এখনো রয়েছে। তিনি জানান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো তাঁরা কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাননি।
কারিগরি শিক্ষায় আসন ফাঁকা
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি এবং ডিপ্লোমা পর্যায়ে প্রায় ৬০০টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিপ্লোমা পর্যায়ে দেশে ৫৬টি সরকারি ও ৬১২টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এসব কোর্স পরিচালিত হয়। বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে আসন রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার ৬১৪ জন।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষায় মোট আসন ১৯ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তি হয়েছে প্রায় পৌনে ১০ লাখ শিক্ষার্থী।
পরিকল্পনাহীন অনুমোদনের অভিযোগ
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, পরিকল্পনা ছাড়া বিপুলসংখ্যক বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, ল্যাবরেটরি ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে একদিকে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে।
তাঁরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলা হলেও মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ কম। শিক্ষার্থীর চাহিদা, কর্মবাজার ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনা করে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম নেই, সেগুলোর বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সম্পর্কিত সংবাদ

বাংলা শিক্ষা
একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তির সময় বাড়ল

বাংলা শিক্ষা
একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু আজ

বাংলা শিক্ষা
চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বর্তমান সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা শিক্ষা
চুয়েটে কমপ্লিট শাটডাউন
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা
বাংলা শিক্ষা
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা

বাংলা শিক্ষা
দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টিভিইটি (TVET)-কে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জাতীয় সংলাপে
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
