'দ্য এজ অব সেভেনটিন' (২০১৬) : একটি সিনেমা, যা শেখায় কিশোর বয়সের একাকীত্ব স্বাভাবিক
Editorial Team২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ১২:৩৪ PM০ ভিউ৪ মিনিট পড়া
শেয়ার:

প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন মনে হয় পৃথিবীর কেউ তাকে বোঝে না। বাবা-মা বোঝে না, বন্ধুরা বোঝে না, শিক্ষকরাও বোঝে না। এই অনুভূতিটাই কেলি ফ্রেমন ক্রেগ পরিচালিত 'দ্য এজ অব সেভেনটিন' (২০১৬) সিনেমার কেন্দ্রে। এটি একটি সতেরো বছরের মেয়ের গল্প, যে মনে করে তার জীবন শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আসলে তার জীবন তখনও শুরু হয়নি।
সিনেমার প্রধান চরিত্র নাদিন ফ্র্যাংকলিন, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন হেইলি স্টাইনফেল্ড। নাদিন হাই স্কুলের একজন ছাত্রী, যে সব সময় নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করে। তার একমাত্র বন্ধু ক্রিস্টা, যার সাথে সে ছোটবেলা থেকে থাকে। তার বাবা মারা গেছেন, তার মা সব সময় তার বড় ভাইয়ের দিকে মনোযোগ দেন, আর তার জীবনে সবকিছুই বিরক্তিকর মনে হয়।
ক্রিস্টা আর ড্যারিয়ান: বন্ধুত্ব ভাঙার গল্প
সিনেমার সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে যখন নাদিন জানতে পারে তার সেরা বন্ধু ক্রিস্টা তার বড় ভাই ড্যারিয়ানের সাথে প্রেম করছে। এই খবরটা নাদিনের জন্য এত কষ্টের হয় যে সে ক্রিস্টাকে ছেড়ে দেয়, তার ভাইয়ের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়, আর নিজেকে আরও একা করে ফেলে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই অংশটি জরুরি, কারণ এটি দেখায়—বন্ধুত্ব মানে সব সময় একসাথে থাকা না। বন্ধুরা বড় হলে পরিবর্তন হয়, সম্পর্ক বদলায়, নতুন সম্পর্ক আসে। সেই পরিবর্তনকে মেনে নেওয়াই বড় হওয়ার অংশ। নাদিন প্রথমে এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারে না, কিন্তু শেষে সে বুঝতে পারে—ক্রিস্টা তার বন্ধু ছিল, কিন্তু ক্রিস্টা তার সম্পত্তি না।
মিস্টার ব্রুনার: অপ্রত্যাশিত বন্ধু
সিনেমার সবচেয়ে মজার এবং সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী দিক হলো নাদিন আর তার শিক্ষক মিস্টার ব্রুনারের সম্পর্ক, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন উডি হ্যারেলসন। মিস্টার ব্রুনার ইতিহাসের শিক্ষক, যিনি সব সময় বিরক্ত, সব সময় হতাশ। নাদিন তাকে তার সব সমস্যা বলে, আর সে শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়, কিন্তু কখনও তাকে ছেড়ে যায় না।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই সম্পর্কটি শেখায়—সব সময় বন্ধু সমবয়সী হয় না। কখনও কখনও একজন শিক্ষক, একজন বড় ভাই, বা একজন অভিভাবকও সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পারে। নাদিনের জীবনে মিস্টার ব্রুনার সেই মানুষ, যে তার কথা শোনে, তাকে বিচার করে না, শুধু পাশে থাকে।
সিনেমার একটি দৃশ্যে মিস্টার ব্রুনার নাদিনকে বলে, "তুমি ভাবো তোমার জীবন শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আসলে তুমি এখনও শুরু করোনি।" এই কথাটি সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী সংলাপ, যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে রাখা উচিত।
নাদিনের যুদ্ধ: নিজের সাথে লড়াই
সিনেমার পুরো গল্পটা আসলে নাদিনের নিজের সাথে লড়াই। সে তার বাবার মৃত্যু, তার মায়ের দূরত্ব, তার ভাইয়ের সাফল্য—সব নিয়ে কষ্ট পায়। সে মনে করে তার জীবনে কিছুই ঠিক না। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে, তার সমস্যা বাইরে না, তার ভেতরে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা অমূল্য। অনেক শিক্ষার্থী মনে করে তাদের সমস্যা পরিবার, বন্ধু, বা পরিস্থিতির কারণে। কিন্তু সিনেমা দেখায়—সমস্যা যেটাই হোক, তার সমাধান নিজের ভেতরে খুঁজতে হয়। নাদিন যখন নিজের ভুল স্বীকার করে, নিজের দুর্বলতা মেনে নেয়, তখনই সে শান্তি পায়।
শিক্ষার্থীদের জন্য কেন এই সিনেমা জরুরি
'দ্য এজ অব সেভেনটিন' শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি কারণ এটি কিশোর বয়সের একাকীত্বকে স্বাভাবিক করে তোলে। এটি দেখায়, একা লাগা মানে পাগল হওয়া না, একা লাগা মানে বড় হওয়া। প্রতিটি শিক্ষার্থী এই সময়টা পার করে, শুধু কেউ বলে না।
এই সিনেমা আরও শেখায়, বাবা-মা সব সময় সন্তানকে বুঝতে পারে না, কিন্তু তার মানে তারা ভালোবাসে না। নাদিনের মা তাকে বুঝতে পারেন না, কিন্তু শেষে দেখা যায় তিনি তাকে ভালোবাসেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষা হলো, বাবা-মায়ের সাথে রাগ না রেখে কথা বলা জরুরি।
সিনেমাটি আরেকটি জরুরি শিক্ষা দেয়—প্রথম প্রেম বা প্রথম ব্রেকআপ মানে জীবন শেষ না। নাদিন নিকের প্রতি আকৃষ্ট হয়, কিন্তু নিক তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এই অভিজ্ঞতা নাদিনকে শেখায়—নিজের মূল্য অন্যের ভালোবাসার ওপর নির্ভর করে না।
শেষ কথা
'দ্য এজ অব সেভেনটিন' শুধু একটি টিনএজ সিনেমা নয়, এটি একটি সত্যিকারের গল্প। এটি শেখায়, কিশোর বয়স কঠিন, কিন্তু সেই কঠিন সময়ও পার হয়। ছুটির দিনে বা পড়াশোনার ফাঁকে এই সিনেমাটা দেখলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সেই কঠিন সময়গুলোর কথা ভাবতে পারবে, আর বুঝবে—একা লাগা মানে একা হওয়া না।
কারণ কিছু সিনেমা বড় হওয়ার গল্প বলে, আর কিছু সিনেমা বড় হতে শেখায়। 'দ্য এজ অব সেভেনটিন' সেই ধরনের একটি সিনেমা, যা দেখার পর মনে হয়—আমি একা না, সবাই এই সময়টা পার করেছে।
পূর্ববর্তী
'টয় স্টোরি ৩' (২০১০) : একটি অ্যানিমেশন, যা শেখায় বড় হওয়া মানে ছেড়ে দেওয়া
পরবর্তী'আ বিউটিফুল মাইন্ড' (২০০১): একটি সিনেমা, যা শেখায় মেধা আর মানসিক স্বাস্থ্য একসাথে চলে
সম্পর্কিত সংবাদ

খেলাধুলা ও বিনোদন
'আ বিউটিফুল মাইন্ড' (২০০১): একটি সিনেমা, যা শেখায় মেধা আর মানসিক স্বাস্থ্য একসাথে চলে

খেলাধুলা ও বিনোদন
'টয় স্টোরি ৩' (২০১০) : একটি অ্যানিমেশন, যা শেখায় বড় হওয়া মানে ছেড়ে দেওয়া

খেলাধুলা ও বিনোদন
'দ্য থিওরি অব এভরিথিং' (২০১৪) : একটি সিনেমা, যা শেখায় মেধা আর ভালোবাসা একসাথে চলে

খেলাধুলা ও বিনোদন
'দ্য ব্রেকফাস্ট ক্লাব' (১৯৮৫) : একটি সিনেমা, যা শেখায় কেউ আসলে স্টেরিওটাইপ নয়

খেলাধুলা ও বিনোদন
'স্ট্যান্ড বাই মি' (১৯৮৬) : একটি সিনেমা, যা শেখায় বারো বছর বয়সের বন্ধুত্বই জীবনের সেরা বন্ধুত্ব
খেলাধুলা ও বিনোদন
'ডেজড অ্যান্ড কনফিউজড' (১৯৯৩) : একটি সিনেমা, যা একটি রাতের গল্প বলে, কিন্তু একটি প্রজন্মের অনুভূতি ধরে রাখে
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
