বিষণ্নতায় কি মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরির ক্ষমতা থমকে যায়? ৫ লাখ কোষ বিশ্লেষণে মিলল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
বিষণ্নতায় কি মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরির ক্ষমতা থমকে যায়? ৫ লাখ কোষ বিশ্লেষণে মিলল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে নতুন নিউরন তৈরির প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে এগোয় না—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে প্রায় পাঁচ লাখ মস্তিষ্ককোষের জিনগত কার্যকলাপ বিশ্লেষণে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বিষণ্নতার চিকিৎসায় নতুন লক্ষ্য বা ‘থেরাপিউটিক টার্গেট’ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। তবে গবেষণাটি এখনো প্রমাণ করেনি যে নতুন নিউরন তৈরির এই পরিবর্তনই বিষণ্নতার কারণ।
মানুষের মস্তিষ্ককে আমরা সাধারণত এমন একটি অঙ্গ হিসেবে ভাবি, যার কোষগুলো একবার তৈরি হওয়ার পর আর খুব একটা বদলায় না।
কিন্তু গত কয়েক দশকের গবেষণা সেই ধারণাকে ধীরে ধীরে পাল্টে দিয়েছে।
মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেও নতুন নিউরন তৈরি হতে পারে—এই ধারণা নিয়ে বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক চলছে।
এবার সেই বিতর্কের মাঝেই সামনে এসেছে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য।
বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের মস্তিষ্কে নতুন নিউরন তৈরির প্রক্রিয়াটি হয়তো মাঝপথে এসে ধীর হয়ে যায়।
আর এই পরিবর্তনটি কোথায় ঘটছে, কীভাবে ঘটছে এবং কোন ধরনের কোষে তার প্রভাব পড়ছে—তার অনেক বিস্তারিত ছবি পাওয়া গেছে নতুন এক গবেষণায়।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nature Medicine-এ।
স্মৃতি, শেখা আর আবেগের সঙ্গে জড়িত হিপোক্যাম্পাস
গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মস্তিষ্কের একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ—হিপোক্যাম্পাস।
হিপোক্যাম্পাস শেখা, স্মৃতি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
বিষণ্নতার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলটির পরিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই গবেষণা করছেন।
গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি ধারণা আলোচনায় রয়েছে—নিউরোজেনেসিস, অর্থাৎ নতুন নিউরন তৈরির প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সমস্যা বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
কিন্তু এতদিন বিজ্ঞানীদের হাতে ছিল না মানুষের মস্তিষ্কের কোষ পর্যায়ে সেই প্রক্রিয়ার এত বিস্তারিত মানচিত্র।
নতুন গবেষণাটি সেই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকেরা শুধু দেখেননি যে নতুন নিউরন আছে কি না।
তারা বোঝার চেষ্টা করেছেন—
একটি নতুন নিউরন তৈরি হওয়ার পথে ঠিক কোন পর্যায়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে?
প্রায় পাঁচ লাখ কোষের ভেতরে খোঁজা হলো উত্তর
গবেষণায় ৩০ জন মানুষের মৃত্যুর পর সংগ্রহ করা মস্তিষ্কের টিস্যু পরীক্ষা করা হয়।
তাদের মধ্যে ১১ জনের মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (MDD) ছিল।
অন্য ১৯ জনের কোনো মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা ছিল না এবং তাদের তুলনামূলক বা control group হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এরপর বিজ্ঞানীরা ওই ব্যক্তিদের হিপোক্যাম্পাসের প্রায় ৫ লাখ কোষের নিউক্লিয়াস বিশ্লেষণ করেন।
ব্যবহার করা হয় single-nucleus RNA sequencing প্রযুক্তি।
সহজ ভাষায় বললে, প্রতিটি কোষের ভেতরে কোন জিনগুলো সক্রিয় এবং কোন জিনগুলো তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয়—তার একটি molecular snapshot নেওয়া হয়েছে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোষের জিনগত কার্যকলাপ দেখে বিজ্ঞানীরা অনেকটা বুঝতে পারেন, একটি কোষ কোন পর্যায়ের এবং সে কী ধরনের কাজ করছে।
ফলে গবেষকেরা নতুন নিউরন তৈরির পুরো যাত্রাপথকে ধাপে ধাপে অনুসরণ করার চেষ্টা করেন।
নতুন নিউরন তৈরি হয় কীভাবে?
নতুন নিউরন তৈরি হওয়া কোনো এক ধাপের ঘটনা নয়।
এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
প্রথমে থাকে neural stem cell—এমন কোষ, যেগুলো ভবিষ্যতে নিউরনে পরিণত হতে পারে।
এরপর তারা যায় neural progenitor cell পর্যায়ে।
তারপর তৈরি হয় neuroblast—যা নিউরনে পরিণত হওয়ার পথে আরও এগিয়ে থাকা কোষ।
সবশেষে এগুলো পরিণত হয় immature neuron-এ।
অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি কারখানার সঙ্গে তুলনা করা যায়।
প্রথমে কাঁচামাল।
তারপর প্রাথমিক উৎপাদন।
এরপর ধাপে ধাপে পরিবর্তন।
শেষে তৈরি হচ্ছে নতুন নিউরন।
গবেষকদের পাওয়া ফলাফল বলছে, বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের মস্তিষ্কে এই ‘কারখানার’ একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যেন গতি কমে গেছে।
বিষণ্নতার মস্তিষ্কে কী আলাদা দেখা গেল?
বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে গবেষকেরা neural stem cell-এর অনুপাত তুলনামূলক বেশি পেয়েছেন।
অন্যদিকে neuroblast-এর অনুপাত ছিল কম।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
কারণ যদি শুরুতে থাকা stem cell অনেক থাকে, কিন্তু পরবর্তী ধাপের neuroblast কম থাকে, তাহলে ধারণা করা যায় যে কোষগুলো এক ধাপ থেকে পরের ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়ছে।
গবেষকদের ভাষায়, পুরো প্রক্রিয়াটি যেন—
“থেমে গেছে” বা স্বাভাবিক গতির তুলনায় পিছিয়ে আছে।
অর্থাৎ সমস্যা হয়তো নতুন নিউরন তৈরির একেবারে শুরুতে নয়।
বরং stem cell থেকে পরবর্তী পর্যায়ের কোষে রূপান্তরের সময় কোথাও একটি বাধা তৈরি হচ্ছে।
এই জায়গাটিই ভবিষ্যতের চিকিৎসার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু এখানেই একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে
গবেষণাটি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, বিজ্ঞানীরা একটি বিষয়ে খুব সতর্ক।
এখনো বলা যাচ্ছে না যে—
নতুন নিউরন তৈরির সমস্যা থেকেই বিষণ্নতা সৃষ্টি হয়।
কারণ গবেষণাটি মানুষের মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নেওয়া টিস্যুর ওপর করা হয়েছে।
এখানে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের মস্তিষ্কে নিউরোজেনেসিসের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিবর্তন।
কিন্তু কোনটি আগে ঘটেছে?
বিষণ্নতা কি নিউরোজেনেসিসকে পরিবর্তন করেছে?
নাকি নিউরোজেনেসিসের পরিবর্তন বিষণ্নতার বিকাশে কোনো ভূমিকা রেখেছে?
নাকি দুটির পেছনে অন্য কোনো জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে?
এখনো তার উত্তর নেই।
আর বিষণ্নতা নিজেও অত্যন্ত জটিল একটি মানসিক অবস্থা।
শুধু হিপোক্যাম্পাস বা নতুন নিউরন তৈরির প্রক্রিয়া দিয়ে এর পুরো ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।
মস্তিষ্কের একাধিক অঞ্চল, নিউরোট্রান্সমিটার, হরমোন, স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া এবং জিনগত ও পরিবেশগত বিভিন্ন বিষয় বিষণ্নতার সঙ্গে জড়িত।
তাই নতুন গবেষণাটিকে বিষণ্নতার ‘একক কারণ’ আবিষ্কার হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
তাহলে চিকিৎসার সম্ভাবনা কোথায়?
এখানেই গবেষণাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।
গবেষকেরা শুধু কোষের সংখ্যা দেখেননি।
তারা খুঁজেছেন কোন molecular pathway এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত।
যদি ভবিষ্যতের গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে নির্দিষ্ট কোনো জৈবিক প্রক্রিয়া stem cell থেকে neuroblast-এ রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করছে, তাহলে সেই প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে নতুন ওষুধ তৈরি করার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের কোনো চিকিৎসা হয়তো শুধু বিষণ্নতার উপসর্গ কমানোর চেষ্টা করবে না।
বরং মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোষীয় প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করার চেষ্টা করতে পারে।
গবেষকদের মতে, তারা এমন কয়েকটি সম্ভাব্য pathway শনাক্ত করেছেন, যেগুলো ভবিষ্যতে ওষুধ তৈরির লক্ষ্য হতে পারে।
তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের সম্ভাবনা।
কোন pathway সত্যিই চিকিৎসার জন্য কার্যকর হবে, তা প্রমাণ করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
প্রাপ্তবয়স্ক মস্তিষ্কে কি সত্যিই নতুন নিউরন তৈরি হয়?
নতুন গবেষণাটি আরও একটি পুরোনো বৈজ্ঞানিক বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কে নতুন নিউরন তৈরি হয় কি না—এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে বিতর্ক করেছেন।
প্রাণীর ওপর গবেষণায় adult neurogenesis-এর যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল।
কিছু গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কে নতুন নিউরন তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আবার কিছু গবেষণা সেই প্রমাণ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফলে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।
নতুন গবেষণাটি অবশ্য শুধু নতুন নিউরন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছে না।
এটি এমনও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সদ্য তৈরি হওয়া নিউরনগুলোর হয়তো মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট কার্যকর ভূমিকা রয়েছে।
অর্থাৎ এগুলো কেবল ‘অতিরিক্ত’ কোষ নয়।
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।
মস্তিষ্ক কি নিজেকে কিছুটা পুনর্গঠন করতে পারে?
এই গবেষণার ফলাফল মস্তিষ্কের একটি চমৎকার বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করে—neuroplasticity বা পরিবর্তনশীলতা।
মানুষের মস্তিষ্ক স্থির কোনো যন্ত্র নয়।
অভিজ্ঞতা, শেখা, পরিবেশ এবং বিভিন্ন জৈবিক পরিবর্তনের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগ ও কার্যক্রম বদলাতে পারে।
যদি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট অঞ্চলে নতুন নিউরন তৈরি হতে থাকে, তাহলে মস্তিষ্কের নিজস্ব পুনর্গঠন ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা আরও বিস্তৃত হয়।
আর যদি বিষণ্নতার সঙ্গে সেই প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক থাকে, তাহলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সামনে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে—
মস্তিষ্কের নিজস্ব পুনর্গঠন ক্ষমতাকে কি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব?
এখনো তার উত্তর পাওয়া যায়নি।
কিন্তু প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।
একটি কোষের মানচিত্র থেকে চিকিৎসার নতুন রাস্তা
গবেষণাটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো কোনো নতুন ওষুধ আবিষ্কার নয়।
বরং এটি মানুষের হিপোক্যাম্পাসের কোষগুলোর একটি অত্যন্ত বিস্তৃত মানচিত্র তৈরি করেছে।
প্রায় পাঁচ লাখ কোষের জিনগত কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, কোন ধরনের কোষ কোথায় বেশি এবং কোন ধরনের কোষ কোথায় কম।
এতে বোঝা যাচ্ছে, নিউরন তৈরির প্রক্রিয়াটি শুধু একটি সাধারণ ‘অন’ বা ‘অফ’ সুইচ নয়।
এর মধ্যে রয়েছে একাধিক ধাপ।
আর বিষণ্নতায় সেই ধাপগুলোর কোনো একটি বা একাধিক জায়গায় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে রোগের সঠিক জায়গা চিহ্নিত করতে পারলে লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার পথও সহজ হয়।
একটি বিশাল অন্ধকার ঘরে যদি শুধু জানা থাকে যে কোথাও সমস্যা হয়েছে, তাহলে মেরামত করা কঠিন।
কিন্তু যদি জানা যায়—সমস্যাটি ঠিক কোন যন্ত্রের কোন অংশে, তখন সমাধানের পথ খোঁজা অনেক সহজ হয়ে যায়।
এই গবেষণা সেই ধরনের একটি মানচিত্র হাতে তুলে দিয়েছে।
সামনে এখন আরও কঠিন প্রশ্ন
তবে বিজ্ঞানীদের সামনে এখনও অনেক প্রশ্ন।
বিষণ্নতা কতদিন স্থায়ী হলে এই পরিবর্তন দেখা দেয়?
চিকিৎসার পর নিউরোজেনেসিসের এই পরিবর্তন কি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে?
সব ধরনের বিষণ্নতায় কি একই পরিবর্তন দেখা যায়?
নারী ও পুরুষের মধ্যে কি পার্থক্য আছে?
বয়সের সঙ্গে এই প্রক্রিয়া কীভাবে বদলায়?
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
যদি নতুন নিউরন তৈরির প্রক্রিয়াকে আবার সক্রিয় করা যায়, তাহলে কি বিষণ্নতার উপসর্গও কমবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা।
সুতরাং নতুন গবেষণাটি কোনো চূড়ান্ত চিকিৎসা ঘোষণা নয়।
বরং এটি মস্তিষ্কের একটি জটিল সমস্যার ভেতরে আরও গভীরে তাকানোর সুযোগ।
বিষণ্নতার চিকিৎসায় হয়তো নতুন অধ্যায়ের শুরু
বিষণ্নতাকে অনেক সময় শুধু মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যের সমস্যা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কিন্তু আধুনিক নিউরোসায়েন্স দেখাচ্ছে, বিষয়টি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
মস্তিষ্কের কোষ কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কীভাবে পরিণত হচ্ছে, একে অন্যের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করছে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে বদলাচ্ছে—এসব প্রক্রিয়াও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
নতুন গবেষণাটি সেই বড় ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সামনে এনেছে।
বিষণ্নতার মস্তিষ্কে হয়তো নতুন নিউরন তৈরির কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি—কিন্তু তার গতি যেন কোথাও এসে আটকে যাচ্ছে।
ঠিক কোথায় সেই বাধা?
কেন তৈরি হচ্ছে?
এবং সেটি সরিয়ে দিলে মস্তিষ্ক কি আবার স্বাভাবিকভাবে নতুন নিউরন তৈরির পথে ফিরতে পারবে?
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন বিজ্ঞানীদের পরবর্তী যাত্রা।
আর সেই উত্তর যদি একদিন পাওয়া যায়, তাহলে বিষণ্নতার চিকিৎসায় হয়তো নতুন একটি দরজা খুলবে—উপসর্গকে শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, মস্তিষ্কের কোষীয় স্তরের পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা করার দরজা।
ক্যানসার ফিরে আসার আগেই শরীরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে টিকা: মেলানোমার বিরুদ্ধে নতুন আশার নাম ব্যক্তিগতকৃত mRNA ভ্যাকসিন
পরবর্তীএআইকে থামানো নয়, লাগাম পরানো জরুরি: প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কি এখন নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষায়?
সম্পর্কিত সংবাদ

বিজ্ঞান বার্তা
আইনস্টাইনের সমস্যার পেছনের আকৃতিতে মিললো নতুন বিস্ময়কর পদার্থবিজ্ঞান

বিজ্ঞান বার্তা
১২৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো কুমিরের ফসিলে UV আলোতে মিললো সম্ভাব্য ক্যামোফ্লেজ

বিজ্ঞান বার্তা
ক্ষুদ্র কোষীয় "অ্যান্টেনা" ব্যাখ্যা করতে পারে কেন কিছু শিশু হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়
বিজ্ঞান বার্তা
'স্টমাক বাগ' প্রতিরোধী কোষকে অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পাঠায়
বিজ্ঞান বার্তা
'সময় গতি বাড়াচ্ছিল, কমাচ্ছিল, এমনকি থেমেও যাচ্ছিল': পদার্থবিদ ল্যাবে 'মিনি-ইউনিভার্স' তৈরি করে সময়ের একটি মূল তত্ত্ব প্রমাণ করলেন
বিজ্ঞান বার্তা
নাসা ISS-এ পদার্থের পঞ্চম অবস্থা তৈরি করছে, মিনি-ফ্রিজ আকারের quantum ল্যাবের আপগ্রেডের সুবাদে
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
