এআইকে থামানো নয়, লাগাম পরানো জরুরি: প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কি এখন নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষায়?
এআইকে থামানো নয়, লাগাম পরানো জরুরি: প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কি এখন নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষায়?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর ভবিষ্যতের কোনো প্রযুক্তি নয়। এটি আমাদের বর্তমান।
কেউ এআই দিয়ে গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করছেন, কেউ রোগ শনাক্তে ব্যবহার করছেন, কেউ নতুন ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছেন। আবার একই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভুয়া ছবি, ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য, নকল করা হচ্ছে মানুষের কণ্ঠস্বর, এমনকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটার সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করার সক্ষমতাও দেখাচ্ছে কিছু অত্যাধুনিক এআই মডেল।
এখানেই এআই নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বিধা।
একটি প্রযুক্তি, যা মানবসভ্যতার জন্য বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, সেটিই যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—তাহলে কী হবে?
প্রশ্নটি আর কেবল বিজ্ঞান কল্পকাহিনির নয়।
এখন এটি আইনপ্রণেতা, গবেষক, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং সাধারণ মানুষের সামনে বাস্তব একটি নীতিগত প্রশ্ন।
এআইকে কি স্বাধীনভাবে বিকশিত হতে দেওয়া হবে?
নাকি প্রযুক্তিটির সম্ভাবনাকে নষ্ট না করে এর ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হবে?
বিশ্বজুড়ে এই বিতর্ক যখন চলছেই, তখন এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগারের একটি হয়ে উঠেছে ইউরোপ।
যখন এআই নিজেই সাইবার নিরাপত্তার পরীক্ষায় নামে
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অত্যাধুনিক এআই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষার ফলাফল নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা মূল্যায়নের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি frontier AI model স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য কম্পিউটার সিস্টেমের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও কাজে লাগানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
কিছু ক্ষেত্রে মডেলগুলো অনলাইনে কাল্পনিক পরিচয় তৈরি করে বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে বলেও জানা গেছে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
এআই নিজে থেকে কোনো অপরাধী হয়ে ওঠেনি।
বরং নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয়েছে—একটি অত্যন্ত সক্ষম এআইকে নির্দিষ্ট পরিবেশে কাজ করতে দিলে সেটি কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে।
আর সেখানেই সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
যদি একটি এআই মডেল সফটওয়্যার দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারে, তাহলে সেই ক্ষমতা কি সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করবে, নাকি ভবিষ্যতে সাইবার হামলাকেও আরও শক্তিশালী করে তুলবে?
উত্তর সম্ভবত দুটোই।
একই প্রযুক্তি দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে বের করে তা ঠিক করা সম্ভব।
আবার একই ক্ষমতা খারাপ উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এআইয়ের ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা—প্রযুক্তির ক্ষমতা নিজে ভালো বা খারাপ নয়। প্রশ্ন হলো, ক্ষমতাটি কার হাতে এবং কী ধরনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।
ইউরোপের উত্তর: ঝুঁকি অনুযায়ী আইন
এই জটিল সমস্যার একটি উত্তর খুঁজতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৈরি করেছে EU AI Act।
আইনটির মূল দর্শন তুলনামূলকভাবে সহজ।
সব এআই এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে না।
তাই সব এআইয়ের জন্য একই ধরনের আইনও কার্যকর হবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এআই সিস্টেমকে বিভিন্ন ঝুঁকির স্তরে ভাগ করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে এমন এআই, যেগুলোকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
আবার রয়েছে high-risk AI system।
যেমন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা বা আইন প্রয়োগের মতো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এআই।
এই ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন হবে বাড়তি স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং মানুষের তত্ত্বাবধান।
কারণ একটি সিনেমার জন্য এআই ব্যবহার করে ভুল সুপারিশ পাওয়া এবং হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভুল সিদ্ধান্ত—এক জিনিস নয়।
দ্বিতীয়টির ফলাফল হতে পারে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।
আরও এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে তথাকথিত unacceptable risk।
মানুষের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য অনুমান করতে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করার মতো কিছু এআই ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
অর্থাৎ ইউরোপের যুক্তি হলো—
সব প্রযুক্তিকে থামাতে হবে না। কিন্তু যে প্রযুক্তি মানুষের মৌলিক অধিকার বা নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সবচেয়ে শক্তিশালী এআইগুলোর জন্য বাড়তি নজরদারি
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে তথাকথিত frontier model।
এগুলো এমন এআই ব্যবস্থা, যেগুলো বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং জটিল নানা ধরনের কাজ করার সক্ষমতা রাখে।
এই ধরনের মডেলের ক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে তথাকথিত systemic risk নিয়ে উদ্বেগ।
একটি ভুল বা অপব্যবহার যদি শুধু একজন ব্যবহারকারীকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, বরং বড় পরিসরে সমাজ, অর্থনীতি বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে—তাহলে সেটি আর সাধারণ প্রযুক্তিগত ঝুঁকি নয়।
সেখানে প্রয়োজন আলাদা ধরনের জবাবদিহি।
ইউরোপের নতুন কাঠামো অনুযায়ী, বড় ও শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মডেল সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য নিয়ন্ত্রকদের দিতে হতে পারে।
তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
কী ধরনের ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে এবং তা কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এখানে একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটছে।
দীর্ঘদিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নতুন পণ্য বাজারে ছাড়ত, আর সমস্যা তৈরি হলে পরে তার সমাধান খোঁজা হতো।
এআইয়ের ক্ষেত্রে ইউরোপ অন্তত নীতিগতভাবে উল্টো পথ নিতে চাইছে।
আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন, পরে ব্যাপক ব্যবহার।
এআই কি মানুষ সেজে কথা বলতে পারবে?
এআই প্রযুক্তির আরেকটি বড় সমস্যা হলো পরিচয়ের বিভ্রান্তি।
আপনি অনলাইনে কার সঙ্গে কথা বলছেন?
একজন মানুষ?
নাকি একটি সফটওয়্যার?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মতো ভাষায় কথা বলতে পারছে। মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করতে পারছে। ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারছে।
ফলে ভবিষ্যতে ডিজিটাল জগতে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে বিশ্বাস।
একটি ভিডিও সত্যি কি না, সেটি বোঝা কঠিন হবে।
একটি কণ্ঠস্বর সত্যিই পরিচিত ব্যক্তির কি না, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হবে।
এমনকি অনলাইনে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য, সংবাদ বা প্রচারণা মানুষের তৈরি, নাকি এআই তৈরি—সেটিও প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।
এই কারণেই এআই-তৈরি কনটেন্টকে শনাক্তযোগ্য করার বিষয়টি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ওয়াটারমার্ক, metadata এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে—কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি কি না।
তবে এখানেও সমস্যা রয়েছে।
ওয়াটারমার্ক থাকলেই কি তা সবসময় শনাক্ত করা যাবে?
একটি ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা করা হলে সেই চিহ্ন কি মুছে ফেলা সম্ভব?
আর সব এআই প্রতিষ্ঠান কি একই মানদণ্ড অনুসরণ করবে?
প্রযুক্তিগত সমাধান যতই উন্নত হোক, একে কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সমন্বয়।
কোম্পানিগুলো বলছে, অতিরিক্ত আইন উদ্ভাবনকে থামিয়ে দিতে পারে
এআই নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সবচেয়ে পরিচিত যুক্তিগুলোর একটি হলো—
অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ উদ্ভাবনকে ধীর করে দিতে পারে।
একটি ছোট গবেষণা প্রতিষ্ঠান যদি নতুন এআই প্রযুক্তি তৈরি করতে চায়, কিন্তু বাজারে আসার আগে তাকে অসংখ্য আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে হয়, তাহলে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তুলনায় তাদের প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
এই যুক্তি পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়।
কারণ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের খরচও আছে।
কঠোর আইন মেনে চলতে প্রয়োজন আইনজীবী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া।
বড় কোম্পানিগুলো হয়তো সেই খরচ বহন করতে পারবে।
কিন্তু ছোট গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সেটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে প্রশ্ন হলো—
উদ্ভাবনের নামে কি এমন একটি প্রযুক্তিকে পুরোপুরি স্বনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া যায়, যার ভুল ব্যবহারের প্রভাব কয়েক কোটি মানুষের ওপর পড়তে পারে?
বিমান নির্মাণে নিরাপত্তা পরীক্ষা লাগে।
ওষুধ বাজারে আনার আগে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল লাগে।
পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ম রয়েছে।
তাহলে মানুষের সিদ্ধান্ত, তথ্য, অর্থনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এমন এআইয়ের জন্য কোনো জবাবদিহি থাকবে না কেন?
সম্ভবত এখানেই ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
ইউরোপ একা নয়, তবে সবাই একই পথে হাঁটছে না
এআই নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়।
চীনের রয়েছে নিজস্ব এআই-সংক্রান্ত নিয়ম ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড।
সেখানে জনসাধারণের জন্য তৈরি কিছু এআই ব্যবস্থা চালুর আগে নিয়ন্ত্রকদের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও দেশটি নিয়ম তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলনামূলকভাবে দীর্ঘদিন বাজার ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক ছিল।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশেষ করে অত্যন্ত শক্তিশালী মডেলগুলো কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে গবেষক ও প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মীরাও প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেছেন।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
কারণ এআই নিয়ন্ত্রণের দাবি এখন শুধু সরকার বা প্রযুক্তিবিরোধী কোনো গোষ্ঠী থেকে আসছে না।
প্রযুক্তি তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মানুষদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা রয়ে গেছে আন্তর্জাতিক সমন্বয়।
একটি এআই মডেল যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে পারে।
তার সার্ভার থাকতে পারে অন্য দেশে।
ব্যবহারকারী থাকতে পারে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে।
তাহলে আইন কার?
দায় কার?
আর একটি দেশ যদি কঠোর নিয়ম তৈরি করে, কিন্তু অন্য দেশ কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই একই প্রযুক্তি তৈরি ও রপ্তানি করে, তাহলে কী হবে?
এআইয়ের মতো সীমান্তহীন প্রযুক্তির জন্য সম্ভবত এক দেশের আইন যথেষ্ট নয়।
শুধু আইন করলেই কি এআই নিরাপদ হবে?
সম্ভবত না।
আইন প্রয়োজন।
কিন্তু আইন একা কোনো প্রযুক্তিকে নিরাপদ করে না।
কারণ এআই এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে, আজ যে ঝুঁকির কথা ভাবা হচ্ছে, কয়েক বছর পর হয়তো সেটি আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি থাকবে না।
আজকের আইন যদি কেবল আজকের প্রযুক্তির জন্য তৈরি হয়, তাহলে আগামীকালের প্রযুক্তি হয়তো সেই আইনের অনেক আগেই এগিয়ে যাবে।
তাই এআই নিয়ন্ত্রণকে একটি স্থির বইয়ের মতো দেখলে চলবে না।
এটি হতে হবে একটি চলমান প্রক্রিয়া।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজন হবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা।
শুধু প্রশাসক বা আইনজীবী দিয়ে এআই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
প্রয়োজন হবে—
গবেষক,
কম্পিউটার বিজ্ঞানী,
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ,
নীতিবিদ,
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ
এবং সমাজবিজ্ঞানীদের।
কারণ এআইয়ের ঝুঁকি শুধু প্রযুক্তিগত নয়।
এটি সামাজিকও।
প্রশ্নটি এআইকে থামানোর নয়
এআই নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দুটি চরম অবস্থান প্রায়ই দেখা যায়।
এক পক্ষ মনে করে, এআই মানবসভ্যতার সব সমস্যার সমাধান করবে।
অন্য পক্ষ মনে করে, এআই মূলত একটি আসন্ন বিপর্যয়।
বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই প্রান্তের মাঝখানে।
এআই নতুন ওষুধ আবিষ্কার দ্রুত করতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের মডেল উন্নত করতে পারে।
চিকিৎসকদের রোগ শনাক্তে সহায়তা করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের বিপুল তথ্য বিশ্লেষণে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।
আবার একই সঙ্গে এটি ভুয়া তথ্য উৎপাদন, সাইবার হামলা, নজরদারি এবং প্রতারণাকেও শক্তিশালী করতে পারে।
একই প্রযুক্তির মধ্যে এই দুই সম্ভাবনাই রয়েছে।
তাই আসল প্রশ্ন—
এআই থাকবে কি থাকবে না—তা নয়।
প্রশ্ন হলো—
আমরা কি এআইয়ের ক্ষমতা ব্যবহারের আগে তার ঝুঁকির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি?
প্রযুক্তির গতির সঙ্গে কি আইন তাল মেলাতে পারবে?
ইউরোপের এআই আইন এখন একটি বড় পরীক্ষা।
এটি সফল হলে অন্য দেশগুলোও একই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করতে পারে।
ব্যর্থ হলে সমালোচকেরা বলবেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে ধীর করে দিয়েছে।
কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার।
এআই এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির স্বেচ্ছা প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করা কঠিন।
একটি কোম্পানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে।
কিন্তু তার প্রতিযোগী যদি দ্রুত বাজার দখলের জন্য নিরাপত্তা পরীক্ষায় কম সময় দেয়, তাহলে পুরো শিল্পেই এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক চাপ তৈরি হতে পারে।
এ কারণেই প্রয়োজন সবার জন্য ন্যূনতম কিছু নিয়ম।
যেমন—
কোন ধরনের এআই ব্যবহারের আগে নিরাপত্তা পরীক্ষা প্রয়োজন?
কোন ধরনের ক্ষমতা মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?
কোন তথ্য ব্যবহার করে মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে?
কপিরাইট কীভাবে রক্ষা করা হবে?
এআই-তৈরি কনটেন্ট কীভাবে শনাক্ত করা যাবে?
আর কোনো মডেল যদি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে সেটিকে বাজার থেকে সরানোর ক্ষমতা কার থাকবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
কিন্তু উত্তর খোঁজার কাজ শুরু হয়ে গেছে।
এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে শুধু আরও শক্তিশালী অ্যালগরিদম নয়।
নির্ধারণ করবে মানুষের তৈরি নিয়মও।
কারণ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো সেটি কতটা শক্তিশালী, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো—সেটি কতটা শক্তিশালী হওয়ার পরও আমরা তাকে কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে পারছি।
এআইকে থামানো সম্ভবত প্রয়োজনও নয়।
কিন্তু তাকে কোনো দিকনির্দেশনা ছাড়া ছেড়ে দেওয়াও আর দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হতে পারে না।
আগামী দিনের আসল প্রতিযোগিতা তাই শুধু কে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে নয়।
বরং কে এমন এআই তৈরি করতে পারে, যার ক্ষমতার সঙ্গে সমানতালে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তাও তৈরি হয়।
বিষণ্নতায় কি মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরির ক্ষমতা থমকে যায়? ৫ লাখ কোষ বিশ্লেষণে মিলল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
পরবর্তীএক বিলিয়ন ডলারের ‘বজ্রযন্ত্র’: ফিউশন শক্তির রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়েও গবেষণা
সম্পর্কিত সংবাদ

বিজ্ঞান বার্তা
আইনস্টাইনের সমস্যার পেছনের আকৃতিতে মিললো নতুন বিস্ময়কর পদার্থবিজ্ঞান

বিজ্ঞান বার্তা
১২৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো কুমিরের ফসিলে UV আলোতে মিললো সম্ভাব্য ক্যামোফ্লেজ

বিজ্ঞান বার্তা
ক্ষুদ্র কোষীয় "অ্যান্টেনা" ব্যাখ্যা করতে পারে কেন কিছু শিশু হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়
বিজ্ঞান বার্তা
'স্টমাক বাগ' প্রতিরোধী কোষকে অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পাঠায়
বিজ্ঞান বার্তা
'সময় গতি বাড়াচ্ছিল, কমাচ্ছিল, এমনকি থেমেও যাচ্ছিল': পদার্থবিদ ল্যাবে 'মিনি-ইউনিভার্স' তৈরি করে সময়ের একটি মূল তত্ত্ব প্রমাণ করলেন
বিজ্ঞান বার্তা
নাসা ISS-এ পদার্থের পঞ্চম অবস্থা তৈরি করছে, মিনি-ফ্রিজ আকারের quantum ল্যাবের আপগ্রেডের সুবাদে
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
