মহাকাশে ধীরে ধীরে পতন, বাঁচাতে গিয়েও ব্যর্থ উদ্ধারযান: শেষ সময়ের অপেক্ষায় নাসার সুইফট টেলিস্কোপ
Science This Week
মহাকাশে ধীরে ধীরে পতন, বাঁচাতে গিয়েও ব্যর্থ উদ্ধারযান: শেষ সময়ের অপেক্ষায় নাসার সুইফট টেলিস্কোপ
পৃথিবীর প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার ওপরে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছে নাসার একটি মহাকাশ টেলিস্কোপ। সেটিকে বাঁচাতে পাঠানো হয়েছিল একটি বিশেষ রোবট মহাকাশযান। কিন্তু নাটকীয় মোড় হলো—উদ্ধার অভিযানই ব্যর্থ হয়েছে। এখন শুধু টেলিস্কোপ নয়, তাকে বাঁচাতে যাওয়া মহাকাশযানটির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।
মহাকাশে সবকিছু যেন চিরকাল ভেসে থাকে—পৃথিবী থেকে তাকালে এমনটাই মনে হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করা প্রতিটি বস্তুই অনন্তকাল কক্ষপথে থাকে না। বিশেষ করে তুলনামূলক নিচু কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানগুলোকে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অত্যন্ত ক্ষীণ, কিন্তু বাস্তব টানের সঙ্গে।
সেই টানেই ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসছে নাসার Neil Gehrels Swift Observatory।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে মহাবিশ্বের সবচেয়ে সহিংস এবং উজ্জ্বল ঘটনাগুলোর খোঁজ করে বেড়ানো এই টেলিস্কোপ এখন নিজের শেষ সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাকে বাঁচাতে শেষ মুহূর্তে পাঠানো হয়েছিল একটি বিশেষ রোবট মহাকাশযান। পরিকল্পনা ছিল, সেটি সুইফটকে ধরে কক্ষপথের আরও ওপরে ঠেলে দেবে।
কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে উদ্ধারযানটিই সমস্যায় পড়ে।
শেষ পর্যন্ত ১৯ আগস্ট নাসা ও বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Katalyst Space উদ্ধার অভিযান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
এখন মহাকাশে পাশাপাশি রয়েছে দুটি সমস্যাগ্রস্ত মহাকাশযান—একটি বহু পুরোনো, বিজ্ঞানী মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেলিস্কোপ; অন্যটি তাকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা প্রায় নতুন একটি রোবটিক যান।
এবং এই গল্পের সবচেয়ে নির্মম দিকটি হলো—উদ্ধারযানের জন্যও আর কোনো উদ্ধার অভিযান নেই।
২০ বছরের বেশি সময় ধরে মহাবিশ্বের বিস্ফোরণ দেখেছে সুইফট
২০০৪ সালে মহাকাশে পাঠানো হয় Neil Gehrels Swift Observatory-কে। এর প্রধান কাজ ছিল মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর একটি—গামা-রে বার্স্ট—খুঁজে বের করা।
গামা-রে বার্স্ট এমন এক ধরনের মহাজাগতিক বিস্ফোরণ, যা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে, কিন্তু সেই অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করে।
এই ঘটনাগুলো এত দূরে ঘটে যে আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় লাগে কোটি কোটি, কখনো বিলিয়ন বছর।
অর্থাৎ সুইফট যখন কোনো দূরবর্তী গামা-রে বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করে, তখন এক অর্থে এটি মহাবিশ্বের অতীতে তাকিয়ে থাকে।
সুইফটের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার দ্রুততা।
কোনো গামা-রে বিস্ফোরণ শনাক্ত করার পর এটি খুব দ্রুত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে সেই ঘটনার দিকে মুখ ঘুরিয়ে দিতে পারত। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণের পরের আলো বা afterglow পর্যবেক্ষণ শুরু করত টেলিস্কোপটি।
এই ক্ষমতার কারণেই সুইফট মহাবিশ্বের অনেক ক্ষণস্থায়ী ও রহস্যময় ঘটনার অবস্থান নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী গামা-রে বার্স্ট নিয়ে গবেষণায় এই পর্যবেক্ষণগুলো বিজ্ঞানীদের নতুনভাবে মহাবিশ্বকে দেখতে সাহায্য করেছে। ধারণা করা হয়, এ ধরনের অনেক বিস্ফোরণ ঘটে অত্যন্ত বিশাল নক্ষত্রের মৃত্যুর সময়।
একটি নক্ষত্রের মৃত্যু—কিন্তু তার আলো কোটি কোটি বছর পাড়ি দিয়ে এসে ধরা পড়ে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা একটি টেলিস্কোপে।
সুইফট ছিল সেই মহাজাগতিক সংবাদদাতাদের একজন।
কিন্তু মহাকাশেও আছে টান
সুইফট এখন যে সমস্যার মুখে পড়েছে, তার পেছনে রয়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল।
টেলিস্কোপটি পৃথিবীর তুলনামূলক নিচু কক্ষপথে রয়েছে। সেখানে বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর পৃষ্ঠের মতো ঘন নয়, কিন্তু একেবারে শেষও হয়ে যায়নি। বায়ুর অতি ক্ষীণ কণাগুলোও দীর্ঘ সময় ধরে একটি মহাকাশযানের গতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনাকে বলা হয় atmospheric drag।
এই টান ধীরে ধীরে মহাকাশযানের কক্ষপথ নিচে নামিয়ে আনে। যত নিচে নামে, বায়ুর ঘনত্ব তত বাড়ে। আর বায়ুর ঘনত্ব বাড়লে প্রতিরোধও বাড়ে।
ফলে পতনের গতি আরও দ্রুত হতে থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ের শক্তিশালী সৌর কার্যকলাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সূর্যের বাড়তি কার্যকলাপ পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত ও প্রসারিত করতে পারে। এর ফলে নিচু কক্ষপথে থাকা উপগ্রহ ও মহাকাশযানগুলোর ওপর বায়ুমণ্ডলীয় টান বেড়ে যায়।
সুইফটও সেই প্রভাবের মুখে পড়েছে।
গত এক মাসেই টেলিস্কোপটি প্রায় ১০ কিলোমিটার উচ্চতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
এখন সেটি প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার উচ্চতায় রয়েছে। কিন্তু প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের নিচে নেমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তখন টেলিস্কোপটির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে যেতে পারে।
শেষ মুহূর্তে বাঁচানোর পরিকল্পনা
সুইফটের শেষ পরিণতি একসময় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের টানে এটি ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসবে এবং একসময় বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে আগুনে পুড়ে যাবে।
কিন্তু গত বছর নাসা সিদ্ধান্ত নেয়, এখনই বিদায় জানাতে চায় না সুইফটকে।
তখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান Katalyst Space-কে দায়িত্ব দেওয়া হয় একটি বিশেষ মহাকাশযান তৈরির।
কাজটি ছিল অত্যন্ত কঠিন।
একটি ছোট রোবট মহাকাশযান সুইফটের কাছে যাবে, তার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিতভাবে সংযুক্ত হবে এবং তারপর নিজের প্রপালশন ব্যবহার করে পুরো টেলিস্কোপটিকে আরও উঁচু কক্ষপথে নিয়ে যাবে।
শুনতে সহজ মনে হলেও মহাকাশে এটি প্রায় অস্ত্রোপচারের মতো সূক্ষ্ম কাজ।
দুটি দ্রুতগতির বস্তু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। তাদের গতি, অবস্থান এবং ঘূর্ণন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সামান্য ভুলও সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারানো বা সম্পূর্ণ মিশন ব্যর্থ হওয়ার কারণ হতে পারে।
এই কাজের জন্য Katalyst তৈরি করে একটি প্রায় রেফ্রিজারেটর আকারের মহাকাশযান, যার নাম LINK।
নাসার হাতে সময় ছিল খুব কম। সুইফট দ্রুত নিচে নেমে আসছিল। ফলে LINK তৈরি ও পরীক্ষার জন্য কোম্পানিটিকে দেওয়া হয়েছিল মাত্র নয় মাসের মতো সময়।
মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়।
তারপরও মিশন শুরু হয়।
কিন্তু সমস্যা শুরু হয় খুব দ্রুত।
সুইফটের কাছে পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণ হারায় উদ্ধারযান
গত মাসে উৎক্ষেপণের পর সুইফটের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে LINK।
কিন্তু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়।
মহাকাশযানটি ঘুরতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। Katalyst-এর প্রকৌশলীরা প্রধান প্রপালশন ইঞ্জিন ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে আবার স্থিতিশীল করতে সক্ষম হন।
কিন্তু সেই প্রচেষ্টারও মূল্য ছিল।
মহাকাশে প্রতিটি জ্বালানির ফোঁটা গুরুত্বপূর্ণ।
LINK-কে স্থিতিশীল করতে গিয়ে যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যয় হয়, তাতে পরে সুইফটকে উদ্ধার করার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি আর অবশিষ্ট থাকেনি।
ফলে উদ্ধার অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই আর বাস্তবসম্মত থাকল না।
১৯ আগস্ট নাসা ও Katalyst Space আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান বাতিল করে।
একটি মহাকাশযানকে বাঁচাতে পাঠানো হয়েছিল আরেকটি মহাকাশযান।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়টিও প্রথমটিকে বাঁচানোর মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারল না।
উদ্ধার মিশন ব্যর্থ, কিন্তু অভিযান পুরোপুরি শেষ নয়
LINK হয়তো আর সুইফটকে কক্ষপথে উঁচুতে তুলতে পারবে না, কিন্তু Katalyst Space পুরো অভিযান বন্ধ করে দিচ্ছে না।
কোম্পানিটি এখনও সুইফটের কাছে গিয়ে বিভিন্ন rendezvous ও proximity operation পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।
অর্থাৎ, উদ্ধার করতে না পারলেও LINK ও Swift-এর মধ্যকার দূরত্ব কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
এ ধরনের মহাকাশ অভিযান ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
কারণ, মহাকাশে একটি উপগ্রহ বা টেলিস্কোপের কাছে নিরাপদে পৌঁছানো, তার গতি ও অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে সমন্বয় করা এবং কাছাকাছি থেকে পরিচালনা করা—এসবই ভবিষ্যতের মহাকাশ রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির অংশ।
সুইফটকে হয়তো বাঁচানো যাবে না।
কিন্তু তাকে বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা ভবিষ্যতে অন্য কোনো মহাকাশযানকে বাঁচানোর প্রযুক্তি তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
মহাকাশযান কি একদিন মেরামত করা হবে?
একসময় মহাকাশে কোনো উপগ্রহ নষ্ট হলে বা জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তার পরিণতি প্রায় নিশ্চিত ছিল।
সেটি হয় মহাকাশের আবর্জনায় পরিণত হতো, নয়তো ধীরে ধীরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে ধ্বংস হয়ে যেত।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
বিশ্বজুড়ে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে মহাকাশে থাকা উপগ্রহের কাছে গিয়ে সেটিকে পরীক্ষা, মেরামত, জ্বালানি সরবরাহ বা অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে হয়তো একটি রোবট মহাকাশযান কোনো পুরোনো স্যাটেলাইটের কাছে গিয়ে তাকে নতুন জ্বালানি দেবে।
কোনো অচল উপগ্রহকে নিরাপদে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে আনবে।
আবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ টেলিস্কোপকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে এমন একটি কক্ষপথে নিয়ে যাবে, যেখানে সেটি আরও বহু বছর টিকে থাকবে।
মহাকাশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বস্তু হয়তো একদিন পৃথিবীর কক্ষপথেই সংরক্ষণ করা হবে—একটি মহাকাশ জাদুঘরের অংশ হিসেবে।
এই প্রযুক্তির আরেকটি সম্ভাবনা আরও আকর্ষণীয়।
একটি অকেজো উপগ্রহের ব্যবহারযোগ্য অংশ খুলে অন্য মহাকাশযানে ব্যবহার করা।
মহাকাশে তখন হয়তো শুধু নতুন যন্ত্র পাঠানো হবে না; পুরোনো যন্ত্রও পুনর্ব্যবহার করা হবে।
কিন্তু সেই ভবিষ্যতের দিকে যাওয়ার পথ যে সহজ হবে না, সুইফট মিশন তার একটি উদাহরণ।
মহাকাশ প্রকৌশলী ডেভিড বার্নহার্টের ভাষায়, এই ধরনের প্রযুক্তির প্রথম দিকের মিশনগুলো ব্যর্থ হতে পারে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশার অংশ।
এবার সত্যিই কি শেষ?
নাসার হিসাব অনুযায়ী, সুইফট এখন দ্রুত নিচে নামছে।
বর্তমান পূর্বাভাস বলছে, টেলিস্কোপটি নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে।
তবে সুইফটের বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম আবার চালু করা হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
উদ্ধার মিশনের আগে বায়ুমণ্ডলীয় টান কমানোর জন্য নাসা সুইফটের কিছু বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম সীমিত করেছিল। টেলিস্কোপটির ঘন ঘন দিক পরিবর্তন কমানো হয়েছিল এবং যন্ত্রের কিছু ডিটেক্টর বন্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে যতটা সম্ভব কক্ষপথে থাকার সময় বাড়ানো যায়।
যদি বিজ্ঞান কার্যক্রম আবার পুরোপুরি চালু করা হয়, তাহলে টেলিস্কোপটির কক্ষপথ আরও দ্রুত নিচে নেমে আসতে পারে।
অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা এখন এক ধরনের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে।
সুইফটের শেষ দিনগুলোতে কি আবার তাকে মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করতে দেওয়া হবে?
নাকি যতটা সম্ভব সময় ধরে কক্ষপথে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হবে?
একটি টেলিস্কোপের শেষ দেখা
দুই দশকের বেশি সময় ধরে সুইফট মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও সহিংস ঘটনাগুলোর দিকে তাকিয়েছে।
তার দেখা আলো এসেছে এমন নক্ষত্র থেকে, যেগুলো হয়তো বহু আগেই বিলীন হয়ে গেছে।
তার যন্ত্রে ধরা পড়েছে এমন বিস্ফোরণের সংকেত, যার উৎস পৃথিবী থেকে এত দূরে যে সেই আলো যাত্রা শুরু করেছিল মানুষের সভ্যতারও বহু আগে।
এখন সেই টেলিস্কোপটিই নিজে ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসছে।
একসময় এটি বায়ুমণ্ডলের ঘন স্তরে প্রবেশ করবে। প্রচণ্ড ঘর্ষণ ও তাপে তার শরীর পুড়ে যাবে।
মহাবিশ্বের বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করা একটি টেলিস্কোপের শেষ পরিণতিও হবে এক ধরনের আগুনে বিলীন হয়ে যাওয়া।
তাকে বাঁচানোর জন্য পাঠানো LINK হয়তো সেই দৃশ্যের সাক্ষী হবে না। কারণ সেটিরও ভবিষ্যৎ দীর্ঘ নয়। নাসার নিয়ম অনুযায়ী, মহাকাশযানটিকেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করতে হবে।
তবু সুইফটের গল্প এখানেই শেষ নয়।
একটি ব্যর্থ উদ্ধার অভিযান হয়তো ভবিষ্যতের সফল উদ্ধার অভিযানের প্রথম অধ্যায় হয়ে থাকবে।
আজ LINK সুইফটকে বাঁচাতে পারেনি। কিন্তু মহাকাশে কোনো টেলিস্কোপ, উপগ্রহ বা গবেষণা যানকে ধরে মেরামত করা, জ্বালানি দেওয়া বা নতুন কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার যে ভবিষ্যৎ কল্পনা করা হচ্ছে, সেখানে এই ব্যর্থতাও এক ধরনের শিক্ষা।
আর সুইফট?
তার সামনে হয়তো আর মাত্র কয়েক মাস।
এই সময়ের মধ্যে সে হয়তো আবারও দূরের কোনো গ্যালাক্সি থেকে আসা শেষ এক ঝলক আলো শনাক্ত করবে।
তারপর, যে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে সে দুই দশক ধরে মহাবিশ্বের দিকে তাকিয়ে ছিল, সেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলেই একদিন তার যাত্রা শেষ হবে।
একজন বিজ্ঞানীর ভাষায়, মহাকাশে ভাসমান এমন সুন্দর ও বিস্ময়কর একটি সৃষ্টি হারিয়ে যাওয়া সবসময়ই দুঃখের—যেন মহাশূন্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ক্যাথেড্রাল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে গিয়েই কি ‘জীবাণু দূষণ’ ঘটাবে মানুষ? বরফের মতো জমে টিকে থাকতে পারে পৃথিবীর অণুজীব
পরবর্তীএকটি হিমবাহ ভেঙে পড়ল, তারপর নেমে এল পানি-পাথর-কাদার দেয়াল: নেপালের ভয়াবহ বন্যা কি ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা?
সম্পর্কিত সংবাদ

বিজ্ঞান বার্তা
আইনস্টাইনের সমস্যার পেছনের আকৃতিতে মিললো নতুন বিস্ময়কর পদার্থবিজ্ঞান

বিজ্ঞান বার্তা
১২৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো কুমিরের ফসিলে UV আলোতে মিললো সম্ভাব্য ক্যামোফ্লেজ

বিজ্ঞান বার্তা
ক্ষুদ্র কোষীয় "অ্যান্টেনা" ব্যাখ্যা করতে পারে কেন কিছু শিশু হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়
বিজ্ঞান বার্তা
'স্টমাক বাগ' প্রতিরোধী কোষকে অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পাঠায়
বিজ্ঞান বার্তা
'সময় গতি বাড়াচ্ছিল, কমাচ্ছিল, এমনকি থেমেও যাচ্ছিল': পদার্থবিদ ল্যাবে 'মিনি-ইউনিভার্স' তৈরি করে সময়ের একটি মূল তত্ত্ব প্রমাণ করলেন
বিজ্ঞান বার্তা
নাসা ISS-এ পদার্থের পঞ্চম অবস্থা তৈরি করছে, মিনি-ফ্রিজ আকারের quantum ল্যাবের আপগ্রেডের সুবাদে
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
