খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ময়ূর নদের পাড়ে স্বপ্ন, গবেষণা আর অন্যরকম এক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

নাম: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
সংক্ষিপ্ত নাম: খুবি বা KU
প্রতিষ্ঠা: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯০-এর মাধ্যমে
শিক্ষা কার্যক্রম শুরু: ১৯৯১ সাল
অবস্থান: গল্লামারী, খুলনা
বর্তমান একাডেমিক পরিসর: ৮টি স্কুল, ২৯টি ডিসিপ্লিন ও ১টি ইনস্টিটিউট
বিশেষ পরিচয়: গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, উপকূল ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক গবেষণা এবং নিরবচ্ছিন্ন একাডেমিক পরিবেশ
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম শুনলে অনেকেই প্রথমে ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভাবেন। কিন্তু এমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যাদের পরিচয় একটু ভিন্ন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক তেমনই একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
এখানে হয়তো শত বছরের পুরোনো ভবনের ইতিহাস নেই। ১৯২১ সালের প্রতিষ্ঠার গল্প নেই, নেই ব্রিটিশ আমলের কোনো দীর্ঘ ঐতিহ্য। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকের পথচলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় নিজের জন্য তৈরি করেছে আলাদা একটি পরিচয়।
ময়ূর নদের পাশে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে চেনার অনেক কারণ আছে।
গবেষণাভিত্তিক পড়াশোনা।
প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ওপর গুরুত্ব।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে গবেষণা।
চারটি ডিসিপ্লিন ও মাত্র ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করে আজ হাজারো শিক্ষার্থীর একটি বড় একাডেমিক পরিবারে পরিণত হওয়া।
আর সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই একটি শান্ত ও নিরবচ্ছিন্ন একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা।
তাই তুমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শুধু একটি ডিগ্রি নয়, বরং গবেষণা, নতুন কিছু শেখা, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা এবং নিজের দক্ষতা তৈরি করার স্বপ্ন দেখো, তাহলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে তোমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যগুলোর একটি।
চারটি ডিসিপ্লিন আর ৮০ শিক্ষার্থী দিয়ে যে যাত্রা শুরু
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯০-এর অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ছিল মাত্র চারটি ডিসিপ্লিন এবং ৮০ জন শিক্ষার্থী।
ভাবা যায়?
আজ যে বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, শুরুতে সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০!
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অনেক সময় তার বয়স দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নির্ধারিত হয়—সে কত দ্রুত নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে পেরেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও ধীরে ধীরে তার একাডেমিক পরিসর বাড়িয়েছে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, আইন, শিক্ষা এবং চারুকলার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন ডিসিপ্লিন যুক্ত হয়েছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী খুবিতে রয়েছে ৮টি স্কুল ও ২৯টি ডিসিপ্লিন।
মাত্র চারটি ডিসিপ্লিন থেকে আজকের এই পরিসর—খুবির বিকাশের গল্পটি এখানেই স্পষ্ট।
ময়ূর নদের পাড়ে অন্যরকম এক ক্যাম্পাস
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলতে গেলে এর অবস্থানের কথা আলাদা করে বলতেই হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টি খুলনা শহরের গল্লামারীতে, ময়ূর নদের পাশে অবস্থিত। খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা সড়কের কাছাকাছি অবস্থিত এই ক্যাম্পাসের পরিবেশ শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা আলাদা।
একদিকে একাডেমিক ভবন, অন্যদিকে খোলা পরিবেশ, জলাশয় আর সবুজের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি স্বতন্ত্র আবহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখার সময় আমরা অনেকেই শুধু একটি বিভাগ বা একটি ডিগ্রির কথা ভাবি।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের চার-পাঁচ বছর কোথায় কাটবে, সেই জায়গাটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সকালে ক্লাসে যাওয়া।
বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে বসা।
লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করা।
বিকেলে খেলাধুলা।
কোনো সংগঠনের অনুষ্ঠান।
কোনো গবেষণাগারে নতুন কিছু নিয়ে কাজ।
এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলো মিলিয়েই তৈরি হয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়জীবন।
আর খুবির ক্যাম্পাস সেই অভিজ্ঞতার জন্য একটি আলাদা পরিবেশ তৈরি করে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আলোচিত পরিচয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ পরিচয় হলো এর একাডেমিক পরিবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পরিচিতিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে খুবিতে ছাত্ররাজনীতিমুক্ত পরিবেশ ও সেশনজটবিহীন একাডেমিক কার্যক্রম বজায় রাখার একটি স্বতন্ত্র ধারা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাজীবনের সুযোগ পায়।
তবে একজন শিক্ষার্থীর কাছে এই বিষয়টির সবচেয়ে বড় অর্থ কী?
ধরো, তুমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে।
তোমার লক্ষ্য চার বছরে একটি স্নাতক ডিগ্রি শেষ করা। এরপর হয়তো উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা গবেষণায় যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।
যদি একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত থাকে, তাহলে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানো তুলনামূলক সহজ হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিরবচ্ছিন্ন একাডেমিক পরিবেশই অনেক ভর্তিচ্ছুর কাছে এটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
এখানে বিভাগ নয়, বলা হয় ডিসিপ্লিন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো এখানে অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত ‘বিভাগ’ শব্দের পরিবর্তে Discipline বা ডিসিপ্লিন শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
আর এই ডিসিপ্লিনগুলোর তালিকাও বেশ বৈচিত্র্যময়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে শুরু করে জীববিজ্ঞান, পরিবেশ, স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, চারুকলা, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান—বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি স্কুল হলো—
- School of Science, Engineering and Technology
- School of Life Science
- School of Management and Business Administration
- School of Social Science
- School of Arts and Humanities
- School of Law
- School of Education
- School of Fine Arts
অর্থাৎ তুমি যদি কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী হও, পরিবেশবিজ্ঞান পড়তে চাও, স্থাপত্য নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখো কিংবা ব্যবসায় শিক্ষা, আইন বা চারুকলার দিকে যেতে চাও—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক পথ রয়েছে।
গবেষণা এখানে শুধু শিক্ষকদের কাজ নয়
অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে গবেষণাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের কয়েক বছর পর যখন উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ কিংবা গবেষণামূলক ক্যারিয়ারের কথা সামনে আসে, তখন অনেকেই বুঝতে পারে—গবেষণার অভিজ্ঞতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে স্বতন্ত্র গবেষণাভিত্তিক dissertation সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এর মানে শুধু বই পড়ে পরীক্ষা দেওয়া নয়।
তোমাকে একটি সমস্যা নিয়ে ভাবতে হবে।
তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
বিশ্লেষণ করতে হবে।
নিজের কাজ লিখতে হবে।
এবং একটি গবেষণার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরিতে এই ধরনের কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সুন্দরবন থেকে জলবায়ু পরিবর্তন—খুবির গবেষণার আলাদা ক্ষেত্র
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থানই এর গবেষণার জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ তৈরি করেছে।
খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চল সুন্দরবন, উপকূল, নদী, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা এবং পরিবেশগত নানা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ফলে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গবেষণার সুযোগও ব্যাপক।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দরবনের পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া রয়েছে Institute for Integrated Studies on the Sundarbans & Coastal Ecosystems, Research and Innovation Centre এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত গবেষণা ও ল্যাব সুবিধা।
তুমি যদি পরিবেশবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ফিশারিজ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা জলবায়ু নিয়ে কাজ করতে চাও, তাহলে খুলনা অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা তোমার গবেষণার জন্য একটি বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
ল্যাব, লাইব্রেরি আর নতুন কিছু করার জায়গা
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় শুধু ক্লাসরুম যথেষ্ট নয়।
বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাবরেটরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে biotechnology, GIS, environmental science এবং coastal fisheries-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত গবেষণা ও ল্যাব সুবিধার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে রয়েছে ৪৫ হাজারের বেশি বই, ৫ হাজারের মতো জার্নাল এবং ডিজিটাল রিসোর্স।
কিন্তু লাইব্রেরি শুধু পরীক্ষার আগে বই খুঁজতে যাওয়ার জায়গা নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এমন একটা সময় আসবে, যখন কোনো একটি বিষয় তোমার সত্যিই ভালো লাগবে। তুমি হয়তো ক্লাসের বইয়ের বাইরে গিয়ে আরও জানতে চাইবে।
সেখান থেকেই শুরু হতে পারে তোমার নতুন আগ্রহ।
হয়তো সেই আগ্রহ একদিন তোমাকে গবেষণার দিকে নিয়ে যাবে।
হয়তো উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে।
অথবা এমন কোনো পেশায়, যেটি এখনো তুমি কল্পনাও করোনি।
৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এক একাডেমিক পরিবার
শুরুতে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮,২৩১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অফিসিয়াল তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ৫২০ জন শিক্ষক এবং বিদেশি শিক্ষার্থীও।
এই সংখ্যাগুলো হয়তো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর ছোট পরিসরের একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নয়।
এটি এখন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর এবং PhD পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
হলজীবন: ক্লাসরুমের বাইরের শিক্ষা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি আবাসিক হল রয়েছে।
হলজীবন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রায় সব জায়গাতেই একই রকম।
শুরুর দিকে অপরিচিত মানুষ।
তারপর রুমমেট।
একসঙ্গে ক্লাসে যাওয়া।
পরীক্ষার আগের রাতে পড়াশোনা।
ক্যান্টিনে আড্ডা।
কখনো তর্ক, কখনো ঝগড়া।
আবার কিছুদিন পর সেই মানুষগুলোকেই ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের কথা ভাবা কঠিন হয়ে যায়।
হলজীবন আসলে তোমাকে শুধু একটি থাকার জায়গা দেয় না।
এটি তোমাকে অন্য মানুষের সঙ্গে থাকতে শেখায়।
নিজের কাজ নিজে করতে শেখায়।
সময়ের মূল্য বুঝতে শেখায়।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তোমার জীবনে এমন কিছু মানুষকে নিয়ে আসে, যারা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় শেষ হওয়ার পরও থেকে যাবে।
ক্যাম্পাস লাইফ মানে শুধু ক্লাস নয়
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শুধু ক্লাস করে বাসায় বা হলে ফিরে যাওয়ার নাম বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নয়।
খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, বিতর্ক, প্রযুক্তি, গবেষণা—বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নিজের দক্ষতা তৈরি করারও অসংখ্য সুযোগ রয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রয়েছে খেলাধুলার মাঠ, ক্যাফেটেরিয়া, মেডিকেল সেন্টার, বিভিন্ন খাদ্যকেন্দ্র, ব্যাংক, ডাকঘরসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্রকাশনায় শিক্ষার্থীদের জন্য sports, recreational facilities, বিভিন্ন student club, career counselling এবং mental health support-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই তুমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শুধু ভালো CGPA করতে চাও, সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এর পাশাপাশি একটি সংগঠনে কাজ করা, কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, নতুন কোনো দক্ষতা শেখা কিংবা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়া—এসব তোমাকে অন্যভাবে তৈরি করবে।
খুবি কেন আলাদা?
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করে এমন কয়েকটি বিষয় রয়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন একাডেমিক পরিবেশ
প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সেশনজটমুক্ত ও শান্ত শিক্ষার পরিবেশ খুবির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
গবেষণাভিত্তিক পড়াশোনা
স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণা ও dissertation-এর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার চেষ্টা করা হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকেন্দ্রিক গবেষণার সুযোগ
সুন্দরবন, উপকূল, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান বিশেষ সুযোগ তৈরি করে।
আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় বিষয়
প্রচলিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ, জীববিজ্ঞান, ব্যবসা, আইন ও চারুকলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
শান্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশ
ময়ূর নদের পাশের ক্যাম্পাস, খোলা পরিবেশ এবং তুলনামূলক শান্ত একাডেমিক আবহ বিশ্ববিদ্যালয়জীবনকে অন্যরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
শেষ কথা: স্বপ্নটা যদি হয় খুবি
আজ হয়তো তুমি কোনো কলেজের বেঞ্চে বসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে পড়ছ।
হয়তো তোমার বন্ধুরা কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখছে।
কেউ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের।
আর তোমার মনে হচ্ছে—“আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই।”
সেই স্বপ্নটিও কম সুন্দর নয়।
হয়তো একদিন তুমি খুলনা শহরে পৌঁছাবে।
প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে দাঁড়াবে।
নতুন ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ক্লাসে যাবে।
অপরিচিত কিছু মানুষ একসময় তোমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে উঠবে।
কোনোদিন লাইব্রেরিতে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে।
কোনোদিন ল্যাবে রাত পর্যন্ত গবেষণা নিয়ে কাজ করবে।
কোনোদিন ক্যাম্পাসের কোনো জায়গায় বসে ভাববে—কয়েক বছর আগে এই জায়গাটা ছিল শুধু আমার স্বপ্ন।
আর আজ আমি এখানে।
সেই দিনের জন্যই তো এখনকার এই প্রস্তুতি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: পদ্মার পাড়ের সবুজ ক্যাম্পাসে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস লেখা হয়েছে রক্তে
পরবর্তীকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: লালমাই-ময়নামতির ঐতিহ্যের মাঝে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের ক্যাম্পাস
সম্পর্কিত সংবাদ
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা
বাংলা শিক্ষা
৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা

বাংলা শিক্ষা
দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে টিভিইটি (TVET)-কে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জাতীয় সংলাপে

বাংলা শিক্ষা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): যে স্বপ্নের শুরু গণিতের খাতায়, আর শেষ হতে পারে একজন প্রকৌশলী হিসেবে
বাংলা শিক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস
বাংলা শিক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: পুরান ঢাকার হৃদয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের এক ক্যাম্পাস

বাংলা শিক্ষা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: সবুজের রাজ্যে, পাখির শহরে আর স্বপ্নের ক্যাম্পাসে এক নতুন জীবনের শুরু
মন্তব্য
অনুমোদিত মন্তব্য এখানে দেখা যাবে। নতুন মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশ হয়।
- এখনো কোনো মন্তব্য নেই।
